যশোরে চামড়ার বাজার চাঙ্গা, দাম না পেয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

কোরবানি ঈদ পরবর্তী গতকাল শনিবারের হাটে উঠেছিল প্রচুর চামড়া। প্রায় ৩০ হাজার পিস গরু ও ছাগলের চামড়ায় চাঙ্গা হয়ে ওঠে যশোরের রাজারহাট। এদিন হাটে ২ কোটি টাকার চামড়ার হাত বদল হয়েছে বলে জানান হাটের ইজারাদার। তবে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। আবার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের দাবি রাজারহাটে চামড়ার দাম বেশ চড়া। এর আগে তিনটি হাটে দাম না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি না করে সংরক্ষণ করে রাখেন।

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। ঈদ পরবর্তী হাটগুলোতে দেশের ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের নজর থাকে এই হাটের দিকে। ৩-৪ বছর আগেও ঈদের সময় প্রায় ২০ কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হতো। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। এজন্য চামড়ার দরপতনকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

যশোরের মণিরামপুরের পাচাকড়ি গ্রামের হরি শংকর রায় জানান, তিনি এবারের কোরবানী ঈদে ৬-৭শ টাকা পিস হিসেবে গরুর চামড়া বাড়িতে গিয়ে ক্রয় করেছিলাম। দাম না থাকায় গত ১২ দিন লবণ মাখিয়ে সংরক্ষণে রেখেছিলাম। কিন্তু সেই কাঙ্খিত দাম গতকালও আমরা পাইনি। আর লবণ খরচ করে পারা যাচ্ছে না। যে কারণে কেনাদামে চামড়া বিক্রি করেছি। অন্তত লোকসান থেকে বেঁচেছি।

একই উপজেলার নেহালপুর গ্রামের শফিয়ার রহমান বলেন, গত ৩ বছর আগেও যে চামড়া ৩ হাজার টাকা পিস ছিল, সেটি গতকাল মাত্র ৭শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবার চামড়া কিনে লাভবান হতে পারলাম না।

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের জিতেন পাল জানান, ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা ফুট বিক্রি হলে লাভবান হতাম, কিন্তু এদিন রাজারহাটে চামড়া বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা ফুট দূরে।

ঢাকার তুবা লেদার কমপ্লেক্সের স্বত্তাধিকারী হাসান কালু বলেন, রাজারহাটে চামড়ার দাম বেশি যাচ্ছে। ভালোমানের চামড়া ১১শ টাকায়ও মিলছে না। এখান থেকে চামড়া কিনে পরিবহন খরচ মিলিয়ে আমরা লাভবান হতে পারবনা। কেননা ভারত, পাকিস্তানসহ বহি:বিশ্বে প্রস্তুতকৃত চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১ ডলারে।

রাজারহাটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে অর্থাৎ গরুর চামড়া প্রতি ফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কেনা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন।

বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, গতকাল ঈদ পরবর্তী রাজারহাটে প্রচুর চামড়ার সমাগম ছিল। মান ও আকার ভেদে প্রতিপিস গরুর চামড়া ৭শ’ থেকে ১১ শ’ ও ছাগলের চামড়া গড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজারহাটের ইজারাদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, ঈদের পরে গতকাল শনিবারই ছিল জমজমাট। এদিন হাটে ৩০ হাজার পিস গরু ও ছাগলের চামড়া উঠেছিল। অন্তত ২ কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে।