গৃহবধূ সালমাকে চলন্ত রিকসায় শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার গৃহবধূ সালমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার স্বামী ফারুক হোসেন। অসুস্থ স্ত্রী সালমাকে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার পথে চলন্ত ইঞ্জিনচালিত রিকসার উপর গলা চেপে হত্যা করেছিল বলে স্বীকার করেছে ফারুক।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গৌতম মল্লিক আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ফরুক হোসেন চাঁচড়া ডালমিল এলাকার ইকু চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া নুর ইসলামের ছেলে।

জবানবন্দিতে ফারুক হোসেন জানিয়েছে, সে তিন বছর আগে সালমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সলামা প্রায় অসুস্থ থাকতো। প্রতি মাসে তাকে রক্ত দেয়া লাগতো। সালমাকে নিয়ে তার সংসার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সালমার বমি হয়। ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা দিলে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। পরদিন সকালে সালমার বুকে ব্যাথা শুরু হয়। এ সময় ফারুক ও তুহিন তাকে একটি ইঞ্জিন চালিত রিকসায় করে ডাক্তার দেখাতে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ফারুক কয়েকবার সালমার গলা চেপে ধরে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ডালমিল এলাকার নুর ইসলামের ছেলে ফারুকের প্রথম স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। পরে পারিবারিকভাবে সালমা খাতুনকে বিয়ে দেয়া হয় ফারুকের সাথে। কয়েক বছর যেতে না যেতে ফারুক আবার তার প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক করে সালমার উপর নির্যাতন শুরু করে। ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সালমার বমি হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরদিন সকালে সালমাকে মারপিটের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। সালমা খাতুনের ভিসেরা রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই জাকির হোসেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী ফারুক হোসেনকে আটক করে সোমবার আদালতে সোপর্দ করেন।