দাকোপে নদী ভাঙনে বিলীনের পথে পোদ্দারগঞ্জ বাজার

::দাকোপ প্রতিনিধি::

খুলনার দাকোপে চুনকুড়ি নদী ভাঙনে পোদ্দারগঞ্জ বাজারসহ পল্টনের উঠানামার পথ সম্পূর্ণ বিলীন হতে চলেছে। ভাঙনের কারণে নদীর তীরবর্তী ওই এলাকার ২০০৫ সাল থেকে প্রায় ১৫টি বসতি, দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা সদর চালনা বাজারের কোল ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে বয়ে গেছে চুনকুড়ি নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৩ নম্বর পোল্ডারে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের চুনকুড়ি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ছিল পোদ্দারগঞ্জ বাজার। এখানে ৫০টি দোকানসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। এ নদী সারা বছরই খরস্রোতা। অব্যাহত এ নদী ভাঙনে চুনকুড়ি খেয়াঘাট থেকে শুরু করে দাকোপ খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬ কি.মি. ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর পুনরায় একাধিকবার এলাকার ভিতর দিয়ে নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় পোদ্দারগঞ্জ বাজারের ৫০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয়রা নিজেদের রক্ষার্থে বাড়ির পশ্চিম পাশ নদীর তীর দিয়ে একটি মধ্যম বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন। পুনরায় ভাঙনের কারণে একাধিক পরিবার এলাকার অন্যত্র চলে যায়।

বর্তমানে লাগাতার ভাঙনে পোদ্দারগঞ্জ এলাকা খোকন মন্ডল, মেঘনাথ মন্ডল, অঙ্গদ বিশ্বাস, মুরারী সরকার, গোপাল সরদার, হিমাংশু শীল, আশিষ রায়, শ্যামাপদ মন্ডল, উৎপল রায়, মৃতুঞ্জয় সরদার, অসিত রায়ের দোকানসহ প্রায় ৩০টি দোকান ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঘরগুলো যখন তখন নদী ভাঙন ও স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে পারে।

দাকোপ ইউপি সদস্য ও পোদ্দারগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার জোয়ার্দ্দার ও দূর্গাপদ রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাকোপ ও বাজুয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ এ বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। বর্তমানে বাজারটি স্থানান্তরের পরও কয়েকটি পরিবার নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে পড়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অতিশিঘ্রই নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করলে ঐতিহ্যবাহী বাজারসহ বসতভিটাগুলো রক্ষা করা সম্ভব।

দাকোপের ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায় বলেন, বাজারটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বাজারে ব্যবসা করে চলে শতাধিক পরিবারের ভরণ পোষণ। স্থানীয় কৃষকরা তাদের কাঁচামাল এ বাজারে বিক্রয় করার সুযোগ পায়। তাই যেকোনো মূল্যে বাজারটি রক্ষা করা দরকার। দাকোপ ইউপি পরিষদ বাজারটি নদী ভাঙন থেকে রক্ষার করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।