বক্তৃতা দারুন উপভোগ করে শাকিল

::এম আর মাসুদ::

এসএম শাকিরুল আলম শাকিল। এই বয়সেই আবৃত্তি ও বক্তৃতায় দারুন নাম কামিয়েছে সে। লেখালেখিতেও বেশ যশ। পুরস্কার পেয়েছে সম্পাদনায়। জীবনে প্রথম মঞ্চে উঠেছিল আবৃত্তি করতে। বাবার ইচ্ছা আর শিক্ষকদের প্রেরণায় স্কুলের এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করতে অনুশীলন ঠিকঠাক থাকলেও যুতসই হয়নি আবৃত্তি। অনেক লোকজনের সামনে আবৃত্তিতে যবুথবু হওয়া সেই শাকিল এখন বক্তৃতায় মঞ্চ মাতায়।

২০১৫ সালে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় সেই আবৃত্তিতে নাম কুড়াতে না পারলেও হাল ছাড়েনি শাকিল। শুধু আবৃত্তি নয় মঞ্চ মাতানোর প্রত্যয়ে দৃঢ় পণ করে সে। দৈনন্দিন লেখাপড়ার মধ্যে মনে মনে প্রস্তুত হতে থাকে আবৃত্তির জন্য। শুরু হয় আবৃত্তি করতে মঞ্চে উঠা। তবে এখন মঞ্চে উঠা শুধু আবৃত্তি করতে নয়, বক্তৃতা ও অনুষ্ঠান সঞ্চালানয়ও সমানতালে। আর এসবের স্বীকৃতিতে তার হাতে উঠেছে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের পুরষ্কার।

শাকিল ছোট বেলা থেকেই শ্রেণি পুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের বই পড়তে প্রেরণা পেয়েছে বাবার কাছে। কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদ ও জাফর ইকবালের বই তার পছন্দ। হুমায়ুন আহমদের হিমু সিরিজের সকল বই পড়েছে সে। নিয়মিত পত্রিকাও পড়ে শাকিল। তাই সাধারণ জ্ঞানেও যথেষ্ট দক্ষ।

গত দুই বছর ধরে ত্রি মাসিক কিশোর পত্রিকা হলুদ পাখি সম্পাদনা করছে সে। ২০১৮ সালে শাকিল দেশসেরা শ্রেষ্ঠ কিশোর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে। সাহিত্য সংগঠন হিমু পরিবহনের কেন্দ্রীয় সংসদ (ঢাকা) তাকে শ্রেষ্ট সম্পাদক নির্বাচিত করে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করে। ২০১৮ সালে উন্নয়ন মেলায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা ও দলনেতা নির্বাচিত হয়।

ইসলামি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০১৬ ও ১৫ সালের উপস্থিত বক্তৃতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠত্বের ক্রেস্ট উঠে তার হাতে। ২০১৭ সালেও শাকিল বিভাগীয় পর্যায়ের পুরস্কার জিতে নেয়। ২০১৬ সালে শাকিরুল আলম শাকিল ইসলামি ফাউন্ডেশন আয়োজিত কবিতা আবৃত্তিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় শ্রেষ্ঠ হয়। তবে এসবের পাশাপাশি বক্তৃতায় রয়েছে তার আগ্রহ। বক্তৃতা করাও দারুন উপভোগ করে শাকিল।

এস. এম. শাকিরুল আলম শাকিলের বাবা এসএম হাসানুল বান্না একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনিও একজন ছন্দাবলী উপস্থাপক। এসএসসি, জেএসসি ও পিইসিতে সর্বোচ্চ গ্রেট প্রাপ্ত শাকিল এবার এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৫৮ পয়েন্ট পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হয়ে মানবসেবা করতে চায়।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী