যশোর শহরে ১৫ হাজার এডিস লার্ভার সন্ধান

::মিরাজুল কবীর টিটো::

যশোর পৌরসভার ৬টি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার স্থান চিহ্নিত করেছে সিভিল সার্জন অফিস। সিভিল সার্জন অফিসের জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬ ওয়ার্ডের ৩৩টি বাড়িসহ ১ হাজার ২৯০টি উৎসে এডিস মশার ১৪ হাজার ৯৩৪টি লার্ভা পাওয়া গেছে। বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে শহরের আরএন রোড ও মণিহার এলাকায় টায়ারের ভিতরে। এ তথ্য জানান জেলা সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায়।

তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, এডিস মশার লার্ভার স্থানে দুটি ফগার মেশিন দিয়ে বিদেশি ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে।

জেলা কিটতত্ত্ববিদ আমিনুল হক স্বাক্ষরিত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যশোর পৌরসভার ৬টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ২৯০টি উৎসে ১৪ হাজার ৯৩৪ টি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ওয়ার্ড ৬টি হচ্ছে ১ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ববারান্দিপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড আরএন রোড মণিহার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড পুরাতন কসবা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কারবালা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড টিবি ক্লিনিক এলাকা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বেজপাড়া। এসব ওয়ার্ডে টায়ার, প্লাস্টিক পট, ফুলের টপ, প্লাস্টিক কন্টেইনার, মাটির পাত্র ও টিনের কোটায় পাওয়া গেছে এডিস মশার লার্ভা।

এরমধ্যে ১ নম্বর ওয়ার্ড বারান্দীপাড়ার সালেহা খাতুনের বাড়িতে প্লাস্টিকের পটে ২৫টি লার্ভা, মিজানুর রহমানের বাড়ির দইয়ের পাত্রে ও প্লাস্টিকের পটে ৩০ লার্ভা, মোশারেফ হোসেনের বাড়ির প্লাস্টিকের পটে ২০ লার্ভা, আব্দুল মান্নানের বাড়ির প্লাস্টিকের পটে পাওয়া গেছে ৩০ লার্ভা। এ ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে ১০৫ লাভা।

২ নম্বর ওয়ার্ড আরএন রোড মণিহার এলাকায় জুয়েলের মোটর গ্যারেজের টায়ারের ভিতরে ১ হাজার লার্ভা, একই জিনিসের ভিতর থেকে রানা আহম্মেদের গ্যারেজে ২ হাজার লার্ভা, দিপক সাহার গ্যারেজে ২ হাজার লার্ভা, কাওছার আহম্মেদের গ্যারেজে আড়াই হাজার লার্ভা, রনজিৎ পালের গ্যারেজে ১ হাজার ৫০০ লার্ভা, মদিনা টায়ার হাউজে ২০০ লার্ভা, দিনার টায়ার হাউজে ২৫০ লার্ভা, ফাতেমা টায়ার হাউজে ১ হাজার লার্ভা, লিজা টায়ার হাউজে ৭০০ লার্ভা, বিশ্বাস টায়ার হাউজে ১ হাজার লার্ভা, আল্লাহর দান টায়ার হাউজে ১ হাজার লার্ভা, মেসার্স মনির উদ্দীন তেল পাম্প টায়ার হাউজে ১০০ লার্ভা, রাজন প্লাস্টি কন্টেইনারে ৫ লার্ভাসহ এ ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে ১৩ হাজার ২৫৫ এডিস মশার লাভা।

৪ নম্বর ওয়ার্ড পুরাতন কসবায় আজিজুর রহমানের বাড়িতে মাটির পাত্রে ৫০ লার্ভা, রফিকুল ইসলামের বাড়িতে টায়ার ও ফুলের টবের ভিতরে ৫০ লার্ভা ও আব্দুল মান্নানের বাড়ির প্লাস্টিকের পটে ৪০ লার্ভা পাওয়া গেছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ড কারবালায় এরশাদ উল করিমের বাড়িতে টায়ার ও পুরাতন ব্যাটারির ভিতরে ১ হাজার লার্ভা, অধ্যাপক লুৎফুল হকের বাড়িতে দইয়ের পাত্রে ১০০ লার্ভা, মাসুদুজ্জামানের দইয়ের পাত্রে ৫০ লার্ভা, ইউসুফ আলীর দইয়ের পাত্রে ২০ লার্ভা, মশিয়ার রহমানের মাটির পাত্রেসহ এ ওয়ার্ডে মোট এডিস মশার ১হাজার ২২০ লার্ভা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ড টিবি ক্লিনিক এলাকায় দেব চন্দ্র বিশ্বাসের প্লাস্টিকের পটে ৩০ লার্ভা, শেফালি বেগমের টায়ারের ভিতরে ৪০ লার্ভা, অমল কৃষ্ণ সরকারের দইয়ের পাত্রে ১৫ লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ওয়ার্ডে লার্ভার সংখ্যা ৮৫।

৮ নম্বর ওয়ার্ড বেজপাড়ায় গোলাম হায়দারের প্লাস্টিকের বদনার ভিতরে পাওয়া গেছে ১ লার্ভা, সোহাগের বাড়ির প্লাস্টিকের গামলায় ৫০ লার্ভা, চান্দুর বাড়ির টায়ারের ভিতরে ৮ লার্ভা ও মানুর বাড়ির টায়ারের ভিতরে এডিস মশার ৫০ লার্ভা পাওয়া গেছে।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু জানান, সিভিল সার্জন অফিস থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার স্থান চিহ্নিত করে তালিকা দেয় ২৭ আগস্ট। তালিকা পাওয়ার পর ২৮ ও ২৯ আগস্ট সেই স্থানগুলোতে ফগার মেশিন দিয়ে বিদেশি ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। সেই সাথে টায়ার ব্যবসায়ীদের পুরাতন টায়ার সরিয়ে ফেরার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পৌরসভার কাউন্সিলর কর্মকর্তারা প্রতিটি ওয়ার্ডের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালাবেন।

এ ব্যাপারে যশোরের সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার রায় জানান, এডিস মশার বেশি লার্ভা পাওয়া গেছে আরএন রোডে পুরাতন টায়ারের ভিতর। স্থান চিহ্নিত করে তালিকা যশোর জেলা প্রশাসক ও পৌরসভায় দেয়া হয়েছে। লার্ভা পাওয়ার স্থান আরএন রোড মণিহার এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে যাতে করে সেখানকার ব্যবসায়ীরা এগুলো অপসারণ করেন।