যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যায় যশোরে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরে যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যার পৃথক দুই মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে একটি আদালত। বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক টিএম মুসা আলাদা রায়ে এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো যশোর সদরের আগরাইল গ্রামের কাওছার মোল্লার ছেলে জাহিদুল ইসলাম ও কেশবপুরের বেতী খোলা গ্রামের মৃত আতশ গাজীর ছেলে মোমিন গাজী। সরকার পক্ষে মামলা দুটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে আসামি জাহিদুল ইসলামের সাথে বাঘারপাড়ার কুটারাকন্দি গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে তাসলিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে জাহিদুল ইসলামসহ তার পরিবারের লোকজন তাসলিমা খাতুনের কাছ ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করতো। মেয়ের সংসারের সুখের কথা চিন্তা করে ১১ হাজার টাকা ও সংসারের মালামাল দেয়া হয়।

২০০১ সালের ২৯ আগস্ট তাসলিমার মা তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর তাসলিমাকে মারপিট করে বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে রাখলে মারা যায়।

এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে ময়না তদন্তে হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় নিহতের মা জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যতন দমন আদালতে একটি মামলা করেন।

আদালতের তাসলিমা খাতুন হত্যা মামলাটি কোতোয়ালি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। এ মামলার তদন্ত শেষে এসআই সোহরাব হোসেন এজাহারনামীয় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে নিহতের স্বামী জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে। এ মামলার অপর চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দিয়েছেন।

অপরদিকে, ২০০০ সালে কেশবপুরের বেতীখোলা গ্রামের মোমিন গাজীর সাথে একই গ্রামের মোবারক সরদারের মেয়ে মনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুক দাবি করলে মোমিনকে ২০ হাজার টাকা দেয়া দেয়া হয়। বাকি ২০ হাজার টাকার জন্য মান্নান প্রায় মনোয়ারাকে মারপিট করতো।

২০০৬ সালের ২০ মে মোমিন ও তার মা মনোয়ারাকে বেদম মারপিট করে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতে ভাই আকবর আলী বাদী হয়ে নিহতের স্বামী মোমিনসহ দুইজনকে আসামি করে আদালতে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।

পরে মামলাটি কেশবপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হওয়ার পর তদন্ত করে ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম।

এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে নিহতের স্বামী মোমিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক অপর আসামিকে খালাস দিয়েছেন। মৃত্যুদ প্রাপ্ত দুইজন পলাতক রয়েছে।