রানার সম্পাদক মুকুলের হত্যাবার্ষিকী আজ, বিচার শেষ হয়নি দীর্ঘ ২০ বছরেও

::মুর্শিদুল আজিম হিরু::

যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুলের ২১তম হত্যাবার্ষিকী আজ শুক্রবার। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে এ মামলার কার্যক্রম। বর্তমানে স্পেশাল জেলা জজ আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। নিহতের স্বজন ও যশোরের সাংবাদিকরা অবিলম্বে মুকুল হত্যার বিচার শেষ করে আসামিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম বদরুজ্জামান পলাশ বলেন, ২০১০ সালে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। হাইকোর্টের আদেশ না পাওয়ায় বর্তমানে মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে। হাইকোর্টের আদেশ পেলে আর্গুমেন্ট শেষে দ্রুত এ মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এ দিকে সাইফুল আলম মুকুলের হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

একপর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম থমকে পড়ে এবং চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সিআইডির এএসপি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দুইজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ৩য়, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জগঠন করা হয়। এ সময় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম বদরুজ্জামান পলাশ বলেন, সাংবাদিক মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। উচ্চ আদালতে যাওয়ায় আবারও মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক আসামি ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ফারাজী আজমল হোসেনের হাইকোর্টে করা অব্যহতির আবেদনের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আদেশ সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে তার আইনজীবীকে। দীর্ঘ ৯ বছর অতিবাহিত হলেও হাইকোর্টে কোনো আদেশ এখনো এ আদালতে এসে পৌঁছায়নি। ফলে মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত হয়ে আছে। এ আদেশ পাওয়া গেলে আসামিদের ৩৪২ ধারায় পরীক্ষার পর যুক্তিতর্ক শেষে দ্রুত রায় পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুলের হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার প্রেসক্লাব যশোর, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে প্রেসক্লাবে সকাল ১০টায় কালো ব্যাজ ধারণ, শোকর‌্যালি, শহিদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জিয়ারত, আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল।