বাঘারপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ: আক্রান্ত ৪০ জন, ২ জনের মৃত্যু

::শাহজাহান সাজু, খাজুরা (যশোর)::

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামে এখন সর্বত্র চলছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। একটু জ্বর হলেই তারা ভীত হয়ে পড়ছে। ছুটে যাচ্ছে যশোর মেডিকেল হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী মাগুরা সদর হাসপাতাল এবং শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অজোপাড়াগাঁয়ের হত দরিদ্র মানুষকে মহামারি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করতে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় আরশাদ আছিয়া নামে একটি কল্যাণ ট্রাস্ট।

তারা গ্রামবাসীকে সচেতন করতে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও করণীয় বিষয়ক আলোচনাসভা, র‌্যালি, লিফলেট বিতরণ ও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে।

গতকাল সরেজমিনে গ্রামটিতে ঘুরে তাদের এমনই কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা গেছে। কথা হয় গ্রামবাসীর সাথে। গত ১৫ দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্তে মারা গেছে এ গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম। এর কিছুদিন পরই মারা গেছেন মৃত বাবর আলীর স্ত্রী মাঝু বিবি। এছাড়া দক্ষিণ চাঁদপাড়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তাইজেলের ছেলে লাল্টুকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করে এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। তারই বোন বর্তমানে নড়াইলের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। শহীদের ছেলে ঢাকা মেডিকেল থেকে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়ি ফিরেছেন।

ফিরোজের ছেলে ফাহাদ ঢাকা মেডিকেল ও চেরাগ আলীর ছেলে আসাদুল খুলনা মেডিকেল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে এখন বাড়িতে। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছেন হাসান আলীর ছেলে রিয়াদ। বর্তমানে যশোর মেডিকেলে ভর্তি আছেন এলাহী মোল্লার ছেলে মাস্টার আমজাদ, সাইদের ছেলে সাকিব, কালু মোল্যার ছেলে সাহেদ। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে এসেছে ডালিমের ছেলে রিপন হোসেন, মন্টু মিয়ার মেয়ে বৃষ্টি।

একই গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হলেন আব্দুল জব্বারের ছেলে গফ্ফার ও মোনছের, আরশাদ মোল্যার ছেলে কুদ্দুস, আব্দুস সালামের ছেলে ইব্রাহীম, মান্দারের ছেলে মুন্তাজ, সফিউল্লাহ ছেলে আব্দুল্লাহ ও মেয়ে জান্নাতি, মোনতাজ মোল্লার স্ত্রী নবিরন নেছা, হবিবারের স্ত্রী মমতাজ, গফ্ফার মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর, আরাফাতের ছেলে পলাশ, জাফরের ছেলে বাবর আলী, শরাফতের ছেলে পলাশ, লিটনের মেয়ে মাহিয়া। এছাড়া একই গ্রামের রুবেলের স্ত্রী ও সোহাগ হোসেনের স্ত্রী চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন। এর মধ্যে অনেকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছে। আরশাদ আছিয়া কল্যাণ ট্রাস্টের এ কর্মকাণ্ড চলাকালে কথা হয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী মোল্যার সাথে।

তিনি জানান, এ গ্রামে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। যার কারণে অত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য র‌্যালী, লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে। ট্রাস্টটির প্রতিষ্ঠাতা শামীম হোসেন জানান, গ্রামের অসচেতন হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার জন্য ডেঙ্গু লক্ষণ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশক নিধন কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে বসত বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

ইতিমধ্যে এ গ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আবুল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম ও মৃত বাবর আলীর স্ত্রী মাঝু বিবি। একই গ্রামে এত সংখ্যক লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় প্রেমচারাসহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গ্রামে চরম ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার কারণে কেউ শরীরে একটু তাপ অনুভব করলেই আতঙ্কিত হয়ে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ছুটছে।

অপরদিকে গত ২২ জুলাই খাজুরা বাজারের পার্শ্ববর্তী ধর্মগাতী গ্রামের উজ্জল বিশ্বাসের ছেলে সৌম বিশ্বাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ১ সপ্তাহ আগে ওসমান গ্রামের মুন্তাজের বিশ্বাসের ছেলে দাউদ হোসেন মন্টু মারা যান। খাজুরা এলাকায় ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়ার আগেই সরকারিভাবে ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ক সব কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।