কাশ্মীরের একটি গ্রামের নাম ‘বাংলাদেশ’!

::স্পন্দন ডেস্ক::

কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলেন অনেকেই। ছবির মতো সুন্দর জায়গাতে এসে ভ্রমণপিপাসুরা মনের খোরাক মিটিয়ে থাকেন। কাশ্মীরের সৌন্দর্য বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন। বিশ্বের আর সব দেশের মতো বাংলাদেশি অনেক পর্যটকেরও অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা এই কাশ্মীর। কিন্তু আমরা কতজন জানি যে কাশ্মীরেও আছে একটি বিশেষ গ্রাম যার নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ।

কাশ্মীরের বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে এ গ্রাম অবস্থিত। বান্ডিপুরা-সোপুরের মাঝ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে ৫ কিলোমিটার হাঁটলেই পাওয়া যায় গ্রামটি। মাত্র ৭ বছর আগে কাগজে কলমে পৃথক গ্রামের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ।

বান্ডিপুরার ডিসি অফিস ২০১০ সালে এই আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেন। ৫/৬ ঘর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ গ্রামে এখন আছে পঞ্চাশেরও বেশি ঘর। তবে এই প্রজন্মের অনেকে গ্রামটির জন্ম ইতিহাস জানেন না। গ্রামবাসীর প্রধান জীবিকা মাছ ধরা। পাশাপাশি তারা পানি আর বাদাম সংগ্রহ করে থাকে।

১৯৭১ সালে জুরিমন নামক এক গ্রামের ৫-৬টি ঘরে আগুন লাগে। আগুনের শিখায় জ্বলে পুড়ে যায় ঘরগুলো। গৃহহীন হয়ে পড়েন নিরীহ সাধারণ এই মানুষগুলো। তারা তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা থেকে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় সবাই মিলে ঘর তোলেন। সেই বছরই ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করে শুরু করেন তাদের নতুন জীবন। তাই তারা তাদের নতুন গ্রামের নাম রাখেন বাংলাদেশ।