মণিরামপুর আ. লীগের দু’গ্রপে সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

::মণিরামপুর প্রতিনিধি::

যশোরের মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার সংঘর্ষ চলাকালে উভয়গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে। এ সময় বোমারও বিস্ফোরণ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রোববার সকালে মণিরামপুর-রাজগঞ্জ সড়কের চলাচলরত ট্রেগার স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘটনা বেশিদূর গড়াতে না পারলেও উভয় পক্ষ পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিতে থাকে।

বেলা ২টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু গাড়িযোগে শহরের দক্ষিণ পাশের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুকের অফিসের কাছে গেলে হামলার শিকার হন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে উভয় গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলাপ করতে তার অফিসে গাড়ি থেকে নামতেই হামলার শিকার হন। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুর নেতৃত্বে তাকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তার গাড়িও ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।

অবশ্য উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু দাবি করেছেন ট্রেগার স্ট্যান্ডে দায়িত্বরত গৌতম নামে তার এক কর্মীকে লাভলু গ্রুপের সদস্যরা মারপিট করে। খবর পেয়ে তার কর্মী সমর্থকরা সেখানে গেলে পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এরপর দুপুরের পর সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু দলবল নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের অফিসে আসে।

এ সময় তার (বাচ্চু) কর্মী সমর্থকরা এগিয়ে গেলে লাভলু সমর্থকরা ইটপাটকেল, বোমা নিক্ষেপসহ লাভলুর ব্যবহৃত শর্টগান থেকে পরপর তিনটি গুলি ছোঁড়ে।

আমজাদ হোসেন লাভলু জানান, তিনি গাড়ি থেকেই নামতেই প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে বাচ্চুর সন্ত্রাসী বাহিনী রাম দা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ করে তাকে মারতে ঘিরে ফেলে। তিনি আত্মরক্ষার্থে তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান থেকে গুলি ছোঁড়েন।

থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।