কেশবপুর পৌরসভা: ৩ বছরে ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন

::সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর::

কেশবপুর পৌরসভায় গত ৩ বছরে ৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এছাড়া আরও ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

১৯৯৮ সালে কেশবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত মেয়র ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদ বিশ্বাস। এ সময় কেশবপুর উন্নয়নের দিক দিয়ে ছিল অনেক পিছিয়ে। বর্তমান মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম মোড়ল নৌকা প্রতীকে ২০১৬ সালে নির্বাচিত হন। তিনি অল্প দিনে পৌরসভার রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন। এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পেয়েছে। ১১.৮৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে গঠিত এ কেশবপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা হলো ২৬ হাজার ২ শত ২৯ জন।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের স্মৃতি বিজড়িত এ কেশবপুর পৌরসভা কালোমুখো হনুমানের জন্য যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে।

মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়লের সময়ে ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি রাস্তা ও ২টি আরসিসি ড্রেন নির্মিত হয়েছে।

পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ৩টি উৎপাদন গভীর নলকূপ, ১টি বুস্টার পাম্প ও ২০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বার্ষিক উন্নয়ন সহায়তার আওতায় ৬টি ওয়ার্ডে ৫৪ টি আরসিসি ও কার্পেটিং রাস্তা ও ৬টি আধুনিক ফুটপাত নির্মাণ হয়েছে।

১ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের জলবায়ূ প্রকল্পের আওতায় ৬৪টি স্ট্রিট লাইট লাগানো হয়েছে। রাজস্ব তহবিল হতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় ২ শত টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও বায়সা গুচ্ছগ্রামের প্রতিটা বাড়িতে সোলার প্যানেল ও পৌর এলাকার ৫০ টি বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে ৬ লাখ টাকায়। ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ টি রাস্তা ও ৭টি ক্রসড্রেন নির্মাণ হয়েছে। ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫টি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি রাস্তা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান রয়েছে। ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হরিহর নদীর উপর আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও কেশবপুর ধান হাটা উন্নয়নে ৭ লাখ টাকা, পৌরসভার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের ছাদ নির্মাণে ৪০ লাখ টাকা, চাল চান্নির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের কেশবপুর পৌরসভা অংশের ১ কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত নির্মাণ হয়েছে। ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাছবাজারের চান্নি নির্মাণ চলমান রয়েছে। ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২শত পিস বৈদ্যুতিক সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে।

আরও ২০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। শতাধিক পৌর নাগরিক জানান বর্তমান মেয়র উন্নয়ন কাজ করে সবার কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদের হাত আমার মাথার উপরে থাকায় পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। স্থানীয় এমপির নির্দেশে কেশবপুরের ইউএনও মিজানূর রহমান আমার পৌরসভার অনেক উন্নয়ন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করে বাধাগ্রস্ত করেছে। যেমন বয়স্ক বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা তৈরির সময় আমার মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

এছাড়াও ইউএনও আমার তৈরি করা দৃষ্টি নন্দন রক্ত করবী মঞ্চের ফুলের বাগান উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। তারপরও কেশবপুর পৌরবাসী আমার সাথে আছে। তাদের আশীর্বাদে ও সহযোগিতায় আগামীতে কেশবপুর পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা গড়তে সক্ষম হবো।