চাঁদা না পেয়ে কাঠমিস্ত্রির মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর শহরের বেজপাড়া সাদেক দারোগার মোড়ে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে বিবেক রায় (৫০) নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক কাঠমিস্ত্রির মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেজপাড়া বনানী রোডের আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে বুনো আসাদ, সাদেক দারোগার মোড়ের ফারুক হোসেন ওরফে হাতকাটা ফারুক এবং একই এলাকার সোহাগ ওরফে তারকাটা সোহাগ আগুন লাগিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে সোমবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় পুলিশ এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন কাঠমিস্ত্রি বিবেক রায়।

বিবেক রায় সস্ত্রীক থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন, তিনি সাদেক দারোগার মোড়ের তালেব দারোগার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার ছেলে আকাশ বিয়ে করেন মাদারীপুরে। কিন্তু পুত্রবধূ হ্যাপী রায়কে নিয়ে নানা অশান্তিতে থাকেন তারা। গত ১৭ আগস্ট হ্যাপী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ হুশতলা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এরপর আকাশ বৌকে রাখবে না বলে জানায়। হ্যাপী মাদারীপুরে তার পিত্রালয়ে চলে যান। বৌমাকে ছাড়ানো জন্য বিবেক তৎপর হন এবং এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ ও ফারুকের শরণাপন্ন হন। বিবেক তাদের হাতে ১৯ হাজার টাকা তুলে দেন।

পরে আসাদ ও ফারুক মাদারীপুরে যোগাযোগ করেন। সেখানে যোগাযোগ করে জানতে পারেন আকাশ যৌতুক বাবদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছে। ওই টাকা ফেরতের জন্য উল্টো চাপ দেন তারা। কিন্তু তিনি (বিবেক) টাকা দিতে রাজি হননি।

বিবেক আরো জানিয়েছেন, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার জন্য ফারুক ও আসাদ তাকে অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। সদর উপজেলার শুড়ো গ্রামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ২ বিঘা ধানের জমি বন্ধক নিয়েছেন বিবেক। ওই টাকা তার।

কিন্তু আসাদ ও ফারুক জানায়, ছেলের শ্বশুর বাড়ির টাকা দিয়ে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। বন্ধক ছাড়িয়ে টাকা দিতে হবে। গত রোববার রাতে আসাদ ও তারকাটা সোহাগ তার বাড়িতে যায়। সে সময় তাদের দাবিকৃত সেই টাকা চান তারা। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে টাকা দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তারকাটা সোহাগ পেট্রোল এনে তার মাথায় ঢালে এবং আগুন জ্বালানোর জন্য ম্যাচ খুঁজতে থাকে। তখন বিবেক দৌড়ে পালিয়ে জীবন বাঁচান। পরে এ বিষয়ে তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (অপারেশনস) শেখ তাসমীম আলম জানান, এমন একটি অভিযোগের কথা শুনেছি। তবে এখনো মামলা হয়নি।

থানার এসআই আমিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়ে রোববার রাতে আসাদকে ধরার জন্য অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তুু তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, আগুন লাগানো বা টাকা চাওয়ার ঘটনা সত্য না। আমি স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বিবেক ওই এলাকায় থাকেন। তার ছেলে পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে মাদারীপুরে হ্যাপী নামে একজনকে বিয়ে করে। ওই মেয়ে তাদের সংসারে থাকতে চায়নি। বিবেক বিষয়টি মিটিয়ে দেয়ার কথা বলে। তাই মিটানোর জন্য চেষ্টা করছি মাত্র। কোনো টাকা চাওয়া হয়নি।

তিনি আরো জানান, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে দোষারোপ করছে। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে বিবেক। আর আমি তারকাটা সোহাগ নামে কাউকে চিনি না।

এ বিষয়ে ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনার আমি কিছু জানি না। আমার নামে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমি দোকানদারি করি। সেখানে কোনো পুলিশ আসেনি। বরং রোববার রাতে পুলিশ আসাদকে খোঁজ করছিল। তারকাটা সোহাগ আসাদের লোক।

তিনি আরো জানান, বিবেক ১৯ হাজার টাকা দিয়েছিল আসাদের কাছে এটা সত্য।