জগলু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ, আটক চালকের স্বীকারোক্তি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

ঝিনাইদহ এলজিইডির গাড়িচালক হাসানুজ্জামান জগলু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত উবার প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে চালক হুসাইন আহমেদকে (২২) আটক করা হয়েছে। তিনি খুলনার চুকনগর এলাকার নরনিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

এর আগে নিহত জগলুর স্ত্রী তহমিনা পারভীন তমাকে আটক করা হয়েছিল। তমা রোববার আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন। আদালতে তার বিবরণ ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।

গাড়িচালক হোসাইন আহমেদও সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক ওই জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার বাড়ি যশোর শহরের শংকরপুরে।

২৭ আগস্ট তমা ও তার দুই বন্ধু মুরসালিন এবং আলআমিন যশোরে এসে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে ওঠেন। সেখানে দেখা হয় পূর্ব পরিচিত নজরুলের সাথে। এরপর তারা নজরুলের বাড়িতে ওই দিন কিছু সময় বিশ্রাম নেন। তমার মোবাইল ফোন ট্রাকিং এবং তার সাথে কথা বলে নজরুলের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। সে কারণে তাকে এই মামলার সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। নজরুল আদালতে সাক্ষীর জবানবন্দী দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন।

হুসাইন আহমেদ আদালতকে জানান, তমা, মুরসালিন ও আলআমিন প্রায় সময় তার ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারটি ভাড়া নিয়ে বেড়াতে যেতেন। সে কারণে তারা পূর্বপরিচিত। যশোরে এসে কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটাবে; এটা তার ধারণা ছিল না। যখন জগলুকে মারা হলো তখন তার আর কিছুই করার ছিল না। তাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, ২৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে যশোরে এসে পৌঁছান। সারাদিন যশোর থেকে রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শামীমা ক্লিনিকের সামনে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে জগলুকে গাড়িতে উঠানো হয়। ঝিনাইদহ শহর পার হওয়ার সাথে সাথে তাকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় প্রতিবাদ করেন। কিন্তু তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘গাড়ি তোর মতো চালা, না হলে তোকেও খুন করা হবে।’ ভয়ে হোসাইন গাড়ি চালাতে থাকেন।

ঝিনাইদহ-যশোর সড়কে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করতে থাকে। পরে সুযোগ বুঝে সাতমাইলের অদূরে বালিরগর্ত নামক স্থানে একটি বাগানের মধ্যে লাশ ফেলে দেয়া হয়। পরে মুরসালিন ও আলআমিন গাড়ি থেকে নেমে গলায় ছুরি দিয়ে কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। পরে তারা মানিকগঞ্জ গিয়ে মুরসালিনের খালা বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে গাড়িটি ধুয়ে ফেলা হয় এবং তমা পোশাক পাল্টে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যান।
হুসাইন আরো জানান, যশোর থেকে ঝিনাইদহে যাওয়ার পথে তাদের কথা শুনে নানাভাবে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যখন হত্যার জন্য গলায় ফাঁস দেয়া হয়েছিল সে সময় প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু তাকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল।

পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ মামলায় বাকি দুই আসামি মুরসালিন ও আলআমিনকে খোঁজা হচ্ছে। তাদের আটক করতে পারলে পুরো মামলাটির তদন্ত শেষ হবে।