পাইকগাছার চাষিদের ঘরে সোনালি আঁশ

::প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা::

পাটের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন খুলনার পাইকগাছার পাট চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এরপরেও যারা আবার করেছেন তারা পাট নিয়ে সোনালি স্বপ্ন দেখছেন।

স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পাট ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা ও পাটের আড়তগুলোতে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশপাশি পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় পাটচাষিরা খুশি। ক্রেতারা পাট চাষিদের কাছ থেকে আগাম পাটকাঠি কিনছে। আঁশ ছাড়ানোর সাথে সাথে পাটকাঠি নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

পাটকঠি ছোট ছোট আটি হিসেবে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার গদাইপুর গ্রামের পাটচাষি কেসমত সরদার জানান, শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাটের আবাদে খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জমি তৈরি, বীজ ক্রয়, নিড়ানী, সার-কীটনাশক, পাট কাটা ও ধোয়া খরচ মিটিয়ে হাতে আর কিছু থাকে না। তারপরও পাটকাঠির দামের উপর নির্ভর করে পাট চাষ করছি।
উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আবাদ হয়েছিল ৬১৫ হেক্টর। এ বছর উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে পাটের আশানরূপ মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা পাটের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে উপজেলায় পাটের আবাদ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। তাছাড়া এ বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা খুশি হয়েছে এবং আগামীতে আরো অধিক জমিতে পাটের চাষ করার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।