অবৈধ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একাট্টা যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

কোচিংয়ের কারণে ছেলে-মেয়েরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকছে। ফলে তারা পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এসব উল্লেখ করে যশোরে কোচিং সেন্টার বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে ২২টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দিক দিয়ে দেশ জুড়ে পরিচিত। দেশে প্রথম নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয় যশোরে। এ শহরে ২২টির মতো সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজের মতো করে পরিচালিত হয়ে আসছে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, যন্ত্র বাজানোর স্কুল ১৫টি। কিন্তু কোচিংয়ের কারণে এসব সাংস্কৃতিক স্কুলগুলোতে ভাটার টান চলছে। শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা অনেকের শূন্যের কোটায়। ফলে শিশু কিশোরদের শৈশব আজ চুরির ফাঁদে। পারিবারিক বন্ধন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তারা।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোচিং সেন্টারগুলোতে বিকেল থেকে রাত অবধি ক্লাশ করা আর শুক্রবার বাধ্যতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অন্য কাজ করতে পারছে না। এ কারণে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ সকলেই কোচিংয়ের বিরুদ্ধে সরব। শিশুদেরকে খেলার মাঠে, নাচ, গান, ছবি আঁকার স্কুলে নিয়ে যেতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী সমাপনী পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। তারপরও জাতীয় দিবসগুলোতেও কোচিং বন্ধ রাখা হয় না। কোমলমতি শিশুকিশোরদের যদি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা না যায়। তাহলে এ বয়স থেকে তারা নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে। তাই জাতীয় দিবসে ও শুক্রবার কোচিং বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন বলেন, বর্তমানে পড়াশোনার উন্মত্ত প্রতিযোগিতা চলছে। এ কারণে ছেলে-মেয়েরা জাতীয় দিবসগুলো ভুলতে বসেছে। তাদের জীবন থেকে আনন্দ হারিয়ে গেছে। ফলে অকার্যকর প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। তাই সাংস্কৃতিক ও কালচার আগ্রহ বাড়াতে শুক্রবার কোচিং বন্ধ রাখা হোক।

সুরধুনীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু জানান, সামগ্রিকভাবে কোচিং সেন্টারগুলো ছেলে-মেয়েদের শারীরিকভাবে বেড়ে উঠার প্রধান অন্তরায়। তাই শুক্রবার কোচিং বন্ধ রাখা জরুরি।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সুরধুনী সংগীত নিকেতনের সভাপতি হারুন অর রশীদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সুকুমার দাস, পুনশ্চ যশোরের সহসভাপতি শহিদুল হক বাদল, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, নৃত্য বিতানের পরিচালক সঞ্জীব চক্রবর্তী, চাঁদের হাটের সহসভাপতি কবীর উদ্দীন, সুরধুনীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, সুরবিতানের সদস্য বাসুদেব বিশ্বাস, সুরধুনী সংগীত নিকেতনের শিক্ষক তাওহীদুল ইসলাম খান, ছাত্র গিয়াস উদ্দীনসহ ২২ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।