শার্শায় পুলিশ ও সোর্সের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

::বিল্লাল হোসেন::

যশোরের শার্শায় ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সোর্সের বিরুদ্ধে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য এসে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ জানান, ভিকটিমের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বর্তমানে ওই নারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মঈনুল হক।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ২৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলের নেতৃত্বে পুলিশ আমার বাড়িতে হানা দেয়।

এ সময় আমার স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তাকে আটকের পর পুলিশ অর্থবাণিজ্যের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ওই রাতে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিকীর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই। তখন এসআই খায়রুলের মুঠোফোনে কল দেন ইউপি সদস্য।

বিষয়টি জানতে চাইলে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। অথচ পরের দিন সকালে জানতে পারি ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে আমার স্বামীকে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে।
ওই নারী আরো জানান, আটক ঘটনার ৯ দিন পর সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এসআই খায়রুল আবারো আমার বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। প্রথমে আমি দরজা খুলতে রাজি হইনি।

পরে খায়রুল আমাকে বলে ‘তোমার ভালোর জন্য এসেছি। আমি একা আসিনি আমার সাথে তোমার প্রতিবেশীরাও আছে। দরজা খোলো।’

দরজা খুলে আমি দেখতে পাই এসআই খায়রুলের সাথে রয়েছে তার সোর্স কামারুল ও আমার প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ ও আব্দুল কাদের। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুই তিন মিনিট কথা বলার পরেই ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে এসআই খায়রুল ও সোর্স কামারুল। বাকি দুইজন বাইরে ছিলেন। ঘরের মধ্যে গিয়ে এসআই খায়রুল আমাকে বলে ৫০ হাজার টাকা দাও। তোমার স্বামীর নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে দেবো। আমি অস্বীকার করতেই এসআই খায়রুল আমার উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। আমি প্রতিবাদ করতেই খায়রুল আমার ওপর হামলে পড়ে। শিশু সন্তানের সামনেই তিনি আমাকে ধর্ষণ করে। পরে সোর্স কামারুলও আমাকে ধর্ষণ করে। আশপাশে কোনো বাড়ি না থাকায় কেউ আমার চিৎকার শুনতে পায়নি। সকালে আমি ঘটনাটি গ্রামবাসীকে জানাই। তাদের পরামর্শে সরাসরি হাসপাতালে আসি ধর্ষণের পরীক্ষা করানোর জন্য।

শিশু সন্তানের সামনে পাশবিক নির্যাতনকারীদের আমি কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, খবর শুনে হাসপাতালে আসেন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান।

তিনি জানান, ওই নারীকে হাসপাতাল থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আরিফ আহমেদ জানান, প্রথমে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারী জরুরি বিভাগে গিয়ে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসককে ঘটনাটি বলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে আমি তার সাথে কথা বলি। এ সময় তিনি আমাকে বলেন হাসপাতালে ভর্তি হবো না আমাকে ধর্ষণের পরীক্ষা করে দেন। কিন্তু পুলিশের মারফত ছাড়া পরীক্ষা করার নিয়ম না থাকায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ওই সময় পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, বিকেলে পুলিশ ওই নারীকে দ্বিতীয়বারের মতো হাসপাতালে আনলে তার ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়।

এ বিষয়ে এএসপি (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। ঢাকা থেকে কর্মস্থলে ফিরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।

পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী নারীকে আমার কার্যালয়ে আনা হয়। সন্ধ্যায় এসআই খায়রুল ও ভুক্তভোগী নারীকে মুখোমুখি করানো হয়েছিলো। তখন ওই নারী খায়রুলকে দেখে বলেছেন ধর্ষণের সময় এই ব্যক্তি ছিলেন না। ধর্ষণকারীর চেহারা ছিলো ভিন্ন।

এসপি আরো বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সালাউদ্দিনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে গেছেন। ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তে যদি এসআই খায়রুল জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।