প্রত্যাহার হলেও শার্শার গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তার নাম নেই, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলমের নামে নেই এজাহারে। সাংবাদিকদের কাছে ওই গৃহবধূ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের শিকারের কথা জানালেও পুলিশ হেফাজতে যাওয়ার পর তার বক্তব্য উল্টে গেছে।
ওই গৃহবধূ তিনজনের নামসহ অজ্ঞাত আরো একজনের কথা উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি মামলা করেছেন। তিনজনকেই পুলিশ আটক করেছে।
আটককৃতরা হলো লক্ষণপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল কাদের (৪০), একই গ্রামের আব্দুল মাজেদের ছেলে আব্দুল লতিফ (৫০) এবং চটকাপোতা গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুজ্জামান কামরুল (৪০)।
অন্যদিকে মামলায় আসামি করা না হলেও এসআই খায়রুল আলমকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আসামিরা খায়রুল দারোগার নাম বললে তিনি দরজা খুলে দেন। তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা দেয়া হলে তার স্বামীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা হালকা করে দেয়া হবে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে দারোগা পরিচয়দাকারী ওই ব্যক্তিরা তাকে ধাক্কা দিয়ে জোর করে খাটের উপর ফেলে উড়না দিয়ে চোখ, হাত মুখ বেঁধে দুইজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তাকে বিছানায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তার অবস্থা খারাপ হলে মঙ্গলবার সকালে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন।
তিনি এজাহারে আরে উল্লেখ করেছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কালীন কোতয়ালি থানার ওসি তার কাছে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এবং ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সে সময় খায়রুল দারোগাকে আমার সামনে হাজির করলে তিনি নন বলে জানতে পারি। পরবর্তীতে আসামিদের হাজির করতে পারলে তিনি চিনতে পারবেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদার বলেন, ‘মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শার্শার চটকাপোতা এলাকার কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষ্মণপুর এলাকার আব্দুল লতিফ এবং আব্দুল কাদেরকে আটক করা হয়েছে। আর অজ্ঞাত আসামিকে আটকে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। অজ্ঞাত আসামি সে যেই হোক না কেন- তাকে কোনও ছাড় দেয়া হবে না।’
প্রধান অভিযুক্ত গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভিকটিমের সামনে এসআই খায়রুলকে কয়েক দফা আনা হয়। কিন্তু তিনি খায়রুলকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেননি।’ ভিকটিমকে কোনো প্রকার ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। তাছাড়া মঙ্গলবার রাতে যখন তাকে অভিযুক্তের সামনে আনা হয়, তখন তার চোখেমুখে কোনও আতঙ্ক বা ভয়ভীতি ছিল না।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন কিন্তু এসআই খায়রুলকে কেন প্রত্যাহার করা হয়েছে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন শিকদার বলেন, ‘যেহেতু এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি দোষী, সেকারণে প্রত্যাহার হয়েছে এমনটি নয়।
ঘটনা তদন্তে ৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন শিকদারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী তিনদিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট পেশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার লক্ষণপুর গ্রামে বুধবার বিকেলে খোঁজ নিয়ে ওই গৃহবধূকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপন করেছেন বলে জানাগেছে।