মাগুরায় দুই সহোদরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি :
সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেবার কথা বলে বেকার যুকবকদের কাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাগুরার দোয়ারপাড়ের সুমন ও সাগর নামে দুই সহোদর। চাকরি না পেয়ে টাকা খুইয়ে এসব পরিবার এখন পথে বসেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে আছে সুমন। অপর ভাই সাগর পলাতক রয়েছে ।
মাগুরা শহরের মীরপাড়ার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী মাগুরা সদর আমলী আদালতে সম্প্রতি দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছেন,তার ছেলে মাহবুবুল আলম হাসানকে সচিবালয়ে চাকরি দেবার কথা বলে শাহিনুর কাদির সুমন ও মাহাবুবুল কাদির সাগর ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। একইসাথে মাগুরা সদরের রূপাটি গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে তানভির, একই গ্রামের ওহাব মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, একই গ্রামের ছানোয়ার আলী, বাগিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান, মাঝাইল গ্রামের আবব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহের শ্রীফলতলা গ্রামের আবু সাঈদ আল ইমরান, মাগুরা সদরের হাজিপুর গ্রামের ইমারান সিদ্দিকের কাছ থেকে চাকরি দেবার কথা বলে মোট ৭৯ লাখ টাকা নেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে নগদ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে এসব টাকা সুমন ও সাগরকে দেয়া হয়। একই বছরের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা ৮ জনকে চাকরিতে যোগদানের জন্য পৃথক নিয়োগপত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ দেয়। এসব নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশ পেয়ে ভুক্তভোগীরা সচিবালয়ে গেলে অভিযুক্ত সুমন ও সাগর সেখানে কোনো অফিস কিম্বা কাজ নির্ধারণ করে না দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাতে থাকে। এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে তারা এগুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করে। যেখান থেকে এসব কাগজপত্র ভুয়া বলে চিহ্নিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়া হবে না মর্মে জানায়। পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করলে তাদেরকে খুন করে লাশ গুম করে দেয়া হবে বলে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। পরবর্তীতে কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেন।
মাগুরা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন কাশেম জানান, তিনি তার বোন নুরুন্নাহার ও অপর একজন শফিকুল ইসলামকে চাকরির জন্যে ২০১৭ সালে সুমনকে ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ওই দুইজন ভুয়া নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশের মাধ্যমে একইভাবে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। এ ব্যাপারে তিনি অভিযুক্ত সুমন ও সচিবালয়ের পিয়ন শফিকুল ইসলাম যিনি সচিব সেজে তার বোনের ইন্টারভিউ নিয়েছিল, মোর্তজা রনি নামে অপর একজন যিনি সচিবের একান্ত সহকারি পরিচয় দিয়েছিল এ তিনজনের নামে ঢাকার মিরপুর ২ নম্বর মডেল থানায় মামলা করেছেন। এই মামলায় গত ২ আগস্ট সুমন র‌্যাবের মাধ্যমে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন কাশেম বলেন, ‘ সুমন ও সাগর তার বোন নুরুন্নাহার ও শফিকুল ইসলামের নামে সচিবালয়ে নিয়ে সার্ভিস বুক খুলে বেশ কিছুদিন কাজ করিয়েছে। এমনকি এক মাসের বেতন পর্যন্ত দিয়েছে। আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কথা বলে বাড়িতে অপেক্ষা করতে বলেছে। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ায় খোঁজ খবর নিতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে’। আবুল কাশেম আরো জানায়, তার জানা মতে এই প্রতারক চক্রটি শুধুমাত্র মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৩৫ জন বেকার যুবককে চাকরি দেবার নামে ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।