বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বাঁকড়ায় শেষ হলো ফুটবল প্রতিযোগিতা

::এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা)::

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া জোনের গ্রীষ্মকালীন আন্তঃস্কুল, মাদরাসার ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। স্বাগতিকদের বিশৃঙ্খলা, রেফারিকে মারপিট করতে যাওয়ায় মাঠ ছেড়ে চলে যায় মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অপর ফাইনাল খেলায় জয় পেয়েছে বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুল।

জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা ক্রীড়া কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলামের অনুরোধে চলতি বছরের বাঁকড়া জোনের গ্রীষ্মকালীন আন্তঃস্কুল, মাদরাসার ফুটবল প্রতিযোগিতা মাটিকোমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বাঁকড়া এলাকার ১৯টি স্কুল ও মাদরাসা দুটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে।

অভিযোগ রয়েছে, খেলায় স্বাগতিক স্কুলের সাথে অন্য যে স্কুলেরই প্রতিযোগিতা হোক খেলোয়াড়রা বিভিন্নভাবে বিড়ম্বনার শিকার হয় স্বাগতিকদের। এমনকি শিক্ষককে পর্যন্ত মারপিটের শিকার হতে হয়েছে। চলতি বছরে মাটিকোমরা ভেন্যু নির্ধারণ হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকরা খেলার নিরপেক্ষতার আশা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাটিকোমরা স্কুলের শিক্ষার্থী ও গ্রামের লোকজন সে আশার মুখে বালি ঢেলে দিয়েছে।

জানা যায়, ইতিপূর্বে অন্য বছরগুলোতে বাঁকড়া হাইস্কুল মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘জি’ গ্রুপের ফাইনাল খেলা বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুল ও হরিদ্রাপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মুখোমুখি হয়। ১-১ গোলে সমতায় খেলা শেষ হলে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে বিজয়ী হয় বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুল। খেলা পরিচালনা করেন মাটিকোমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মনিরুজ্জামান মিন্টু। সহকারী ছিলেন মুজিবর রহমান বাংলা ও লিটন বিশ্বাস। ধারাভাষ্যে ছিলেন সাংবাদিক আলমগীর ও বায়েজিদ মাহমুদ।

বিকেল ৫টায় মাঠে গড়ায় ‘এইচ’ গ্রুপের ফাইনাল খেলা। স্বাগতিক মাটিকোমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যকার এ খেলায় প্রথম থেকেই খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মাটিকোমরা একাদশের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। প্রথমে মাটিকোমরা এক গোলে এগিয়ে গেলেও হাফটাইমের আগেই গোলে সমতা আনে মাটশিয়া একাদশ। ম্যাচ রেফারি হামিদুর রহমান টিক্কা ও তার দুই সহযোগী মশিয়ার রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম নিরপেক্ষভাবে খেলা পরিচালনা এবং অবৈধ বাঁধাদানে হলুদ কার্ড প্রদর্শনে তাদেরকে মারপিট করতে যায় স্থানীয় লোকজন। এতে করে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় আগত অতিথি ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের মাঝে।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পরপরই মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় একাদশ নীরব প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ত্যাগ করে। মাটিকোমরা একাদশের খেলোয়াড়রা বল নাড়ানোর পর মাটশিয়া একাদশের কোনো খেলোয়াড় জায়গা থেকে নড়েনি। ফলে মাটশিয়ার গোলে বল পাঠিয়ে দেয় মাটিকোমরা একাদশের খেলোয়াড়রা। এর পরপরই মাটশিয়া একাদশের সকল খেলোয়াড় মাঠ ত্যাগ করে চলে যান। স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে এটা ছিল তাদের নীরব প্রতিবাদ বলে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা অভিমত ব্যক্ত করেন।

মাটশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান দৈনিক স্পন্দনকে জানান, আমাদের খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে মারা হচ্ছিল। আমাদের গোলকিপারের পিছন থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হচ্ছিলো। তাদের দর্শকরা খেলোয়াড়দের মারামারি করার জন্য উস্কানি দিচ্ছিলো। খেলায় হার-জিত থাকবে। তাই বলে মাঠে আমার বাচ্চাদের মারবে আর আমি মুখ বুজে বসে থাকবো তা হয় না? তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ তাদের প্রতিহত করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আর বিনাকারণে কেনো মার খেতে যাব। খেলায় কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। যারা বনে যায়, তারা রাবণ হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্কুল ভিত্তিক খেলা আর করতে যাবো না।

পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাটিকোমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন সোহাগ, বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুলের সভাপতি হাফিজুর রহমান, মাটিকোমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলালউদ্দীন খান, হরিদ্রাপোতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক জামালউদ্দীন, ক্রীড়া শিক্ষক ইসমাইল হোসেন, মনিরুজ্জামান মিন্টু, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।