কোটচাঁদপুরে হায় হায় সংস্থা গ্রাহকের ২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

::কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি::

সমাজ সেবা উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি সংগঠন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে প্রায় তিন শতাধিক গরিব অসহায় মানুষের ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এরপর থেকে গত দুইদিন ধরে কোটচাঁদপুর দুধসরা সড়কের লিমা বেকারির মালিক সাইফুল ইসলামের বাসভবনে নিচতলা তালাবদ্ধ অফিসের সামনে ভুক্তভোগীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মাহবুবুল আলম এবং পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগী কোটচাঁদপুর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী শাহিদা খাতুন এবং একই গ্রামের দাউদ হোসেনের স্ত্রী কামরুন নাহার অভিযোগ করে বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে দু’জন পুরুষ ও এক নারী আমাদের গ্রামে গিয়ে বলেন, কোটচাঁদপুরে সমাজ সেবা উন্নয়ন সংস্থা’র শাখা অফিস খোলা হয়েছে। এখানে গরিব অসহায় মানুষের মধ্যে থেকে পুরুষ মহিলা আলাদা আলাদা ভাবে ১০ জনের একেকটি দল গঠন করে সদস্য করা হবে। ওই সকল সদস্যের মাঝে সুদ বিহীন ঋণ বিতরণ করা হবে।

সেই সাথে সদস্যদের এবং তাদের ছেলে মেয়েদের বিনা টাকায় হস্ত শিল্পের কাজ শেখানো হবে। কাজ শেখানো শেষ হলে তাদেরকে সেলাইমেশিন দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিনা সুদে ঋণ নিতে হলে ১ লাখ টাকা নিতে ১০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা নিতে হলে ৫ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। সাথে ভর্তি ফি ১৫০ টাকা দিতে হবে। যে কারণে শাহিদা খাতুন ও কামরুন নাহার ১ লাখ টাকা করে নেয়ার জন্য তারাও ভর্তি ফি ১৫০ টাকাসহ দুজনে ২০ হাজার ৩০০ টাকা তুলে দিয়েছিলেন ওই প্রতারকদের হাতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারকরা কোটচাঁদপুর শহর থেকে ৭/৮ কিমি দূরের গ্রামে গিয়ে ৪/৫ দিন ধরে সহজ সরল মানুষের মাঝে এমন লোভনীয় প্রচার চালায়। সেই সাথে ৩১ আগস্ট (শনিবার) কোটচাঁদপুর দুধসরা সড়কে লিমা বেকারির মালিক সাইফুল ইসলামের মালিকাধীন বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়ে ওই প্রতারকরা সাইন বোর্ড লাগান এবং ওই দিনই কয়েকটি চেয়ার টেবিল তোলেন ওই বাড়িতে। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর (রোববার) পর্যায়ক্রমে একেক গ্রুপের সদস্যদের ডেকে তাদের অফিস দেখান। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ঋণ প্রদানের কথা বলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সদস্যরা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি জমা দিতে এসে অফিস তালাবদ্ধ পান এবং তাদের মোবাইলও বন্ধ পান।

দোড়া ইউপি সদস্য আশরাফ আলী বলেন, তাদেরকে বিশ্বাস করে পুরুষ গ্রুপের সাথে ১০ হাজার ১৫০ টাকা দিয়েছি। বুঝতেই পারিনি আমরা প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছি।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের মত বহু মানুষের কাছ থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে ওই প্রতারক চক্র।

বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যবসায়ীক কাজে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকি। তাদেরকে অফিস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছিল। শুক্রবার ভাড়ার চুিক্তনামা হওয়ার কথা। কিন্তু তারা বাসায় উঠার চার দিনের মাথায় এলাকার মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে চলে গেছে বলে আমি মোবাইল ফোনে জানতে পারলাম।

কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) বলেন, কোটচাঁদপুর থেকেই প্রতারক হুন্ডি কাজল হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। সেখানে আবার অপরিচিত মানুষকে এ এলাকার লোকজন টাকা দিয়ে বিশ্বাস করে কি করে বুঝি না! তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।