তালায় শালতা নদীর খনন কাজ বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার আশংকা

তপন চক্রবর্তী, তালা (সাতক্ষীরা):
তালার বহুল প্রত্যাশিত শালতা নদী খনন শুরু হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে খনন কাজ। নদীর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতবিরোধ শুরু হয়েছে। ফলে গত তিন মাস ধরে শালতা নদীর আধা কিলোমিটার খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় পাঁচটি গ্রামের ফসলের ক্ষেত, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্র্ণ জনপদের পানি নিষ্কাশনের মুখে খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে কৃতীম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ১৯৮৬ সালে সালতাসহ খুলনার ৫টি নদীর নাব্যতা হারাতে শুরু করে। এরমধ্যে ভদ্রা ও শালতা নদী ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে খননের জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হয়। পরে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নদীর তলদেশ ৬০ মিটার ও উপরিভাগে ১১০ মিটার খনন কাজ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা ও শালতার ৩০ কি:মি: নদী খননে নয়টি প্যাকেজে সাতিটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শালতা নদী। একসময় বিস্তীর্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো এ নদী দিয়ে। শালতা ছিল মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রাণ। সরকারি মানচিত্রে নদীটির প্রস্থ কোথাও ৪৫০ ফুট, কোথাও ৫০০ ফুট আবার কোথাও ৪০০ ফুট দেখানো হয়েছে। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নদীর ১৬,১৭/১ নং পোল্ডারের একাংশ বুড়িভদ্রার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং অপর অংশ শিবসা নদীতে গিয়ে মিশেছে। মাঝের প্রায় ১৩ কিঃমিঃ একেবারেই মরে গেছে।
তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান অভিযোগ করে বলেন, নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে শালতা খনন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খনন কাজের ঠিকাদার নামমাত্র খনন করে লুটপাট করছে। সিডিউল মোতাবেক কোন কাজ হচ্ছে না। বিয়য়টি নিয়ে তদারকি কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালীপনার কারণে তার ইউনিয়নের প্রায় পাঁচটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নদীর জমি দখল করে মাছ চাষ করায় নদী খননে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আবু তালেব হোসেন জানান, নদীর ওই স্থানে নরম থাকায় স্কেভেটর মেশিন নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে কাজ করার মতো হলে খনন কাজ শুরু করবো।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন জানান, এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি হাসনাত-উ-জ্জামান জানান, একটি সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সিডিউলের বাইরে কোনো কাজ হবে না।