দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪, যশোরে ৫৬

::মিরাজুল কবীর টিটো::

দেশে সাক্ষরতার হার যখন ৭৪ ছুঁইছুঁই যশোর জেলার এ হার তখন ৫৬ দশমিক ৫। আঞ্চলিক পরিসংখ্যন অফিস যশোর এ তথ্য জানিয়েছে। এ অবস্থায় আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতার দিবস-২০১৯’ পালিত হবে। জাতিসংঘ দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘বহুভাষায় সাক্ষরতা উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা’।

১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ দিবসটি নির্ধারণ করা হয়।

১৯৬৬ সালে বিশ্বে প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। প্রতিবছর এ দিবসটি উদযাপনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের সাক্ষরতা এবং বয়স্ক শিক্ষার অবস্থা তুলে ধরা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের হিসেবে দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬৭ বছর পর্যন্ত সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। গড় সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। গত বছর গড় সাক্ষরতার হার ছিল ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। সে হিসেবে এ বছর সাক্ষরতার হার ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যশোর পরিসংখ্যন অফিসের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন ২০১১ সালের পরের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ২০১১ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের হিসেব অনুযায়ী যশোরে সাক্ষরতার হার ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০১ সালে এ হার ছিল ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ। বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। সেই সাথে পুরুষ ও নারীর সংখ্যাও বেড়েছে। জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে সাক্ষরতার হার বেশি যশোর সদরে। এ হার ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

অভয়নগর উপজেলায় সাক্ষরতার হার ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আগে ছিল ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ৬ দশমিক ২ শতাংশ হার বেড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ ও নারী ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বাঘারপাড়ায় সাক্ষরতার হার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ। আগে ছিল ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। ২ দশমিক ১ শতাংশ। চৌগাছায় সাক্ষরতার হার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগে ছিল ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ৯ দশমিক ৮ শতাংশ হার বেড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৫৬ শতাংশ ও নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ ।

ঝিকরগাছায় সাক্ষরতার হার ৫৩ শতাংশ। আগে ছিল ৫২ শতাংশ। ১ শতাংশ সাক্ষরতার হার বেড়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৫৫ দশমিক শতাংশ ৩ ও নারী ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ।

কেশবপুরে সাক্ষরতার হার ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। আগে ছিল ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ। সাক্ষরতার হার ৮ শতাংশ বেড়েছে। মনিরামপুরে সাক্ষরতার হার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ । আগে ছিল ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ। ২ দশমিক ৯ শতাংশ সাক্ষরতার হার বেড়েছে।

শার্শায় সাক্ষরতার হার ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আগে ছিল ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ। বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ ।

জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম দৈনিক স্পন্দনকে জানান, ২০২১ সালের আদম শুমারীর পর সাক্ষরতার আপডেট তথ্য পাওয়া যাবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল খালেক জানান, দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ সচেতন হচ্ছে। তারা শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সাক্ষরতার হার বাড়ছে।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে সারাদেশে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের ২১ লাখ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের ১৬টি উপজেলার নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতার জ্ঞান প্রদান করা হবে। এ কার্যক্রম চলতি বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হবে। বর্তমানে বই ছাপানো, প্রশিক্ষণ গাইড তৈরি ও নিরক্ষর ব্যক্তিদের শনাক্তে জরিপ কাজ শুরু হয়েছে।