শার্শায় গৃহবধূ গণধর্ষণ: তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়লো সাতদিন

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

শার্শায় গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলায় আটক তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। যশোরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দিন হুসাইন রোববার শুনানি শেষে প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই এর এসআই শেখ মোনায়েম হোসেন ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

এদিকে শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। অন্যদিকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরো সাতদিন বর্ধিত করা হয়েছে।

এসআই মোনায়েম হোসেন জানান, ধর্ষণ মামলায় আটক কামরুল ইসলাম, ওমর আলী ও আব্দুল লতিফকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ওই তিন আসামি এখন পিবিআই এর হেফাজতে রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। এরমধ্যে নমুনা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের আদেশের পর আসামিদের ঢাকায় নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

ধর্ষণে প্রধান অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল আলমের ব্যাপারে জানতে চাইলে শেখ মোনায়েম হোসেন বলেন, এটি তদন্তের বিষয়। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লক্ষণপুর গ্রামে রাতে পুলিশসহ চারজনের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠার পর শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে রোববার পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, ওসিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বদলি করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় পুলিশ সুপার মইনুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, এম মশিউর রহমান দুই বছরের বেশি সময় শার্শা থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবে তার অন্যত্র বদলীর সময় হওয়ায় তাকে আপাতত পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির গত শনিবার তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার প্রয়োজনীয় তদন্তের কাজের সময় আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিন সদস্যের এ কমিটির অন্যতম সদস্য কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ফকির আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, তিনদিনে তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। ফলে পুলিশ সুপারের পরামর্শে রিপোর্ট দেয়ার কাজ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর যশোরের শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকেকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে। পরদিন এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর কামরুল ইসলাম, ওমর আলী ও আব্দুল লতিফকে আটক করা হয়।