জঙ্গি হয়ে উঠার বর্ণনা দিলেন আনসার আল ইসলামের ৩ সদস্য

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল ইসলামের ৩ সদস্য যশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার আলাদাভাবে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা ৩ জনই জবানবন্দি দেন।

এরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার হাসাডাঙা গ্রামের শাহিনুর রহমানের ছেলে হাবিবুল্লাহ আল হেলাল, আব্দুল গফুরের ছেলে রায়হান উদ্দিন ও শ্যামকুড় গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে মুনতাছিম বিল্লাহ শামিম।

হাবিবুল্লাহ আল হেলাল জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, এলাকার রহিমের ছেলে সোহরাব হোসেনের সাথে নিয়মিত ইসলামী বই পরতে শুরু করেন। সোহরাব তাকে বলে, তাওহিদ, শিরক, কুফর, বিদআত সম্পর্কে জানার পর জিহাদ সম্পর্কে জানার প্রয়োজন। এরপর সোহরাব তাকে যশোরের উমায়ের নামের একজনের সাথে পরিচয় করায়। সোহরাব দুইটি সফটওয়্যারের লিংক দেয় এবং ফলো করতে বলে।

এরপর তিনি ওই পেজ থেকে জিহাদ সম্পর্কে জানেন। এরপর তারা আনসার আল ইসলামের অনুসারী হয়ে চলতে থাকে। তারা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে জিহাদ সম্পর্কে উচ্চতর শিক্ষালাভ করেন। এবং ফেকনাম হিসেবে হেলাল উপাধি গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি ওই এলাকার রায়হান উদ্দিনকে জিহাদ সম্পর্কে দাওয়াত দেয়। আবু বক্কর নামে একজ সফটওয়্যার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দাওয়াত পান। আবু বক্কর মণিরামপুরের শ্যামকুড় গ্রামের শামীমকে দাওয়াত দেন। তারা ইমাম মেহেদীর দল তালেবান ও আলকায়দা অনুসারি হয়ে বিভিন্ন জায়গায় দাওয়াত দেন।

মণিরামপুরের চিনাটোলা বাজারের পাশে একটি মসজিদে উমায়ের ও জুবায়েরকে যেতে বলে। হেলাল, রায়হান, আবু বক্কর, উমায়ের, শামীমসহ সকলে একত্রিত হয়। প্রথমে বক্কর ও রায়হান প্রশাসনের নজরদারীতে আসেন এবং গ্রেফতার হয়। এরপর হেলালকেও র‌্যাব গ্রেফতার করে বলে তিনি জানান।

জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসেইন জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

এরপর তাছিম বিল্লাহ আদালতকে জানান, তিনি কেশবপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। কলেজের দ্বিতীয়বর্ষে থাকতে আবু বক্করের সাথে তার পরিচয়। তাকে বিভিন্ন জিহাদি অ্যাপস সম্পর্কে জানান হেলাল। চিনাটোলা মসজিদে তার সাথে উমায়ার পরিচয় হয়। একপর্যায় তিনি বুঝতে পারে ভুল রাস্তায় পা দিয়েছেন। জিহাদি অ্যাপস মুছে ফেলে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে নিয়মিত পড়াশোনা করে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন এমন সময় র‌্যাব তাকে আটক করে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

অপর আসামি রায়হান উদ্দিন আদালতকে জানিয়েছেন, মণিরামপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। একদিন বাসস্ট্যান্ডে হাবিবুল্লার সাথে তার দেখা হয়। তিনি মুফতি মেহেদি সম্পর্কে তার কাছে ওয়াজ করেন। এরপর সোহরাবের সাথে পরিচয় হয়। সোহরাবের কাছ থেকে জিহাদি অ্যাপস সম্পর্কে জানেন। এরপর উমায়েরের সাথে পরিচয় হয়। উমায়ের তাকে একটা সফটওয়্যার দেয়। চিনাটোলা মসজিদে শামীম ও বক্কারের সাথে দেখা হয়। এরপর তিনি একটা দোকান দিয়ে ব্যবসায় ব্যস্ত থাকতেন তাদের সাথে আর কথা হতোনা। এরই মধ্যে র‌্যাব তাকে আটক করে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ২০ জুলাই ভোরে মণিরামপুর উপজেলার সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে যশোরেরর র‌্যাব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার-আল ইসলামের ওই তিনজনকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, মোবাইল ও মেমোরি কার্ড উদ্ধার করা হয়।