যে প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট পায় সেই তিন রোহিঙ্গা

::স্পন্দন ডেস্ক::

গত সপ্তাহে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমুরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র-এনআইডি ছিলো। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী তিন রোহিঙ্গা যুবক আটক হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার নানা কাহিনী ও কৌশলের কথা জানা যাচ্ছে।

ওই তিন যুববেকর মধ্যে দু’জন হলেন মিয়ানমারে মংডু জেলার অংচি গ্রামের আলী আহমদের ছেলে মো. ইউসুফ ও মো. মুসা, আরেকজন মিয়ানমারের একই এলাকার মো. আজিজ। তারা গত ডিসেম্বর নোয়াখালীর সেনবাগের ঠিকানা ব্যবহার করে এনআইডি সংগ্রহ করেন, পরবর্তীতে নোয়াখালীর আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করেন পাসপোর্ট।

পাসপোর্টের আবেদনপত্রে আবেদনকারীর বাবা-মা, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য মিথ্যা উল্লেখ করা হলেও সে তথ্য যাচাই না করেই তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পক্ষে ভুয়া রিপোর্ট দেন। দুই কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল হুদা আবেদনপত্র তদন্ত না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

ভুয়া পাসপোর্ট তৈরির এ পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসবির কিছু কর্মকর্তা জড়িত বলে জানা গেছে।

ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া ওই তিন রোহিঙ্গা হলো মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ মুছা ও মো. আজিজ। পাসপোর্টের তথ্যে ইউসুফ ও মুছা সম্পর্কে ভাই। এ তিন জন কক্সবাজারের উখিয়ার হাকিমপাড়ার শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের সময় পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত দুই বছর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার খাইয়াংখালী হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছিল তারা। ইউছুফ ও মুছার বাড়ি মিয়ানমারের মংডুর দুমবাইয়ে এবং আজিজের বাড়ি মংডুর চালিপাড়ায়।

নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ ও মুছার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর। তাদের বাবার নাম আলী আহমেদ, মায়ের নাম লায়লা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা-নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নজরপুর গ্রাম।

মোহাম্মদ আজিজের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি। পাসপোর্টের আবেদনপত্রে তার বাবার নাম জামির হোসেন, মায়ের নাম রশিদা উল্লেখ করা হয়। স্থায়ী ঠিকানা লেখা হয়েছে, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ সেনবাগ গ্রাম।

এ বিষয়ে কাদরা ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের দফাদার মহরম আলী বলেন, ‘এ গ্রামে মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার ভাই মোহাম্মদ মুছা নামে কোনও ব্যক্তি নেই এবং কোনও অফিসার তদন্ত করতে আসেনি।’