ধান বীজ খেকো চার উপপরিচালক বরখাস্ত

অসীম মোদক,মহেশপুর:
প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ধান বীজ চুরির অভিযোগে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর কৃষি খামারের চার উপপরিচালক বরখাস্ত হয়েছেন। ১২৯ মেট্রিক টন ধান বীজ পাচারের সাথে জড়িত প্রমাণ হওয়ায় দত্তনগর কৃষি খামারের গোকুলনগর ইউনিটের উপপরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা খামারের উপপরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল ও পাথিলা কৃষি খামারের উপপরিচালক আক্তারুজ্জামান তালুকদার এবং যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক আমিন উল্যাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। বিএডিসি সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা গত সোমবার এই নির্দেশ দেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান মহা-ব্যবস্থাপক বীজ (বিএডিসি) নুরুন নবী সর্দার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা স্বাক্ষরিত চিঠিতে (স্মারক ১২.০৬.০০০০.২০৩.২৭.২৮৩.১৯.৭২১ /৭২২/৭২৩ ও ৭২৪) বলা হয়েছে ‘বিধি বহির্ভুতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুল নগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮/১৯ উৎপাদন বর্ষে কর্মসূচি বহির্ভুত অতিরিক্ত ১২৯.২২ মেট্রিক টন এসএল-৮এইচ হাইব্রীড জাতের ধান বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র যশোরে প্রেরণ করেছেন। আপনি/আপনারা অতিরিক্ত বীজ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়মানুযায়ী মজুদ ও কাল্টিভেশন রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেননি। এমন কি অতিরিক্ত কোন বীজ প্রেরণের কোনো চালান বা তথ্য প্রমাণ খামারে রাখেননি। আপনারা উক্ত ধান বীজ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য সংরক্ষণ ও উৎপাদন বিষয়ক প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেহেতু আপনাদের এহেন কার্যকলাম বিএডিসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ১৯৯০ এর ৩৯ (ক)(খ)(চ) দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, চুরি, আত্মসাৎ, হতবিল তছরুপ ও প্রতারণার সামিল। ফলে আপনি বা আপনাকে ১৯৯০ এর ৪৫ (১) বিধি মোতাবেক সংস্থার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে অতিরিক্ত মহা ব্যবস্থাপক (খামার) বিএডিসি, ঢাকা দপ্তরে সংযুক্তি করা হলো। এই সময়ে সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না।’
একই অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক আমিন উল্যা।
বরাখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে আলু ও ধান বিক্রিতে কয়েক লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।