যশোরে আরো নতুন ১শ’ ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ২ নারীর মৃত্যু

বিল্লাল হোসেন:
যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘণ্টায় যশোর জেলায় নতুন করে ১শ’ ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন মণিরামপুর উপজেলার হানোয়ার গ্রামের আব্দুল কাদেরের স্ত্রী জাহিদা বেগম (৩৫) ও মশ্মিমনগর গ্রামের ইনতাজ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, এ পর্যন্ত যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭ জন মারা গেছেন। মানুষকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিভাগ তৎপর রয়েছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে স্বজনরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জাহিদা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে। তার রক্তের প্লাটিলেট কমে গিয়েছিলো। সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তিনি আরো জানান, মৃত আরেকজন জাহানারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক আরো জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৮৫জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত শাহাজাহান আলী বিশ্বাস (৭০) নামে একজনের মৃত্যু হয়। শহরের কুইন্স হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া গ্রামের হাজের আলীর ছেলে। এছাড়া যশোরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ও অন্য জেলার বাসিন্দা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জন মারা যান। এরা হচ্ছেন- মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের রেবেকা খাতুন ওরফে রেশমা (৫৫)। তিনি মণিরামপুর উপজেলার রাজবাড়িয়া গ্রামের সেকেন্দারের স্ত্রী। ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে আটটায় মারা যান তিনি। কেশবপুর বরণডালী গ্রামের রুহুল কুদ্দুস ৩১ আগস্ট রাতে মৃত্যুবরণ করেন। ১৩ আগস্ট মণিরামপুরের মধুপুর গ্রামের আরিফ (১২) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। আর ১৯ জুলাই নড়াইলের রোকসানা পারভীন রানী মারা যান যশোরের ইবনে সিনা হাসপাতালে।
সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, যশোরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ না কমায় তারাও চিন্তিত। শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কমলেও বেড়েছে বিভিন্ন উপজেলায়। গ্রামের মানুষ বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, যশোর জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিললো ৭শ’ ৬৮ জন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচার-প্রচারণা, আলোচনাসভাসহ নানা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ৩টি মনিটরিং টিম গঠন, ১টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, ঢাকার বাইরে যশোরে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু জ্বর থেকে রক্ষা পেতে মানুষকে সচেতন হতে হবে। নয়তো যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। এদিকে যশোর জেলায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে না আসায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন একাধিক মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভাগীয় কমিশনার যশোর জেলাকে তুলনামূলক ঝুঁিকপূর্ণ বিবেচনা বিশেষ পরিকল্পনা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে।