বাঁকড়ায় বেড়েছে মাদকসেবী ও জুয়াড়ি, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় দিন দিন মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ তালিকায় কিশোর ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই বেশি। প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় কতিপয় বেকার যুবক এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে এলাকায় চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে মাদকসেবীদের অভিভাবককে।

স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় সেবনকারীদের হাতে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর গ্রামের বাগের মোড়ের মুদিদোকানদার আবু মুছার দোকানের সার্টার কেটে তিন কিশোর দোকানে ঢুকে মালামাল চুরি করে। দোকানদার ও গ্রামের লোকজন সন্দেহ করে করে উজ্জ্বলপুর গ্রামের আয়ুব গাজীর ছেলে রায়হান বাবু (১৬), একই গ্রামের কেসমত আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (১৫) এবং মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের বাঁচতুল্যা মোড়লের ছেলে জাহিদ হাসানকে (১৮) আটক করে। তাদের মারপিটের পর তারা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে।

পরে ঘটনাস্থলে যায় বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই বাবুল শিকদার ও মিজানুর রহমান এবং বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিছার আলী ও তার সহযোগিরা। পুলিশের দুই অফিসারকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠক বসে।

সালিশে ওই তিন কিশোরকে ৫০ হাজার করে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রাতেই নগদে রায়হান বাবু ও ইমরান হোসেনের পরিবার এক লাখ টাকা প্রদান করেন এবং পরের দিন সকালে জাহিদ হাসানের পরিবার বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

ইমরান হোসেনের দরিদ্র বাবা কেসমত আলী বাঁকড়া বাজারের স্বর্ণকারদের নিকট থেকে সুদে টাকা নিয়ে ছেলের জীবন বাঁচিয়েছে বলে তার এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশের মধ্যস্থতায় সেই মুদিদোকানদার পেয়েছেন মাত্র উনিশ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে দোকানদার আবু মুছা জানান, তার দোকান থেকে ৩০/৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
মাটশিয়া প্রবীণ ব্যক্তি জামাল হোসেন জানান, তারসহ গ্রামের ৪০টির মত পানির মোটর চুরি হয়েছে। কয়েকজনের বাইসাইকেল চুরি হয়েছে। কিছু দিন নেশাখোরদের দৌরাত্ব কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

রাতে মনিরামপুর ও ঝিকরগাছা দু’উপজেলার সীমানা বরাবর কয়েকটি পয়েন্টে কপোতাক্ষ তীর ঘেঁষা এলাকায় জুয়া নেশার আসর বসছে। কিন্তু এদের কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না অভিভাবক বা এলাকার বয়স্করা।

বাঁকড়া বাজারের ন্যাশলান বুক ডিপোর মালিক মফিজুর রহমান জানান, বাঁকড়া কলেজ রোডে বাসার দু’তলার জানালা খুলে গভীররাতে সামস্যাং জে সেভেন ফোন নিয়ে গেছে চোরেরা। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের শ’শ’ বাবলা গাছ, খলসী খাল পাড় ২০/২৫টি বাবলা গাছ, বাঁকড়া গন্দুর মোড় হতে খলসী বাজার ১৫/২০টি বাবলা গাছ ও বাঁকড়া দরগাতলা মেইন রোডের পাশে একটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাছ কেটে উজাড় করেছে। লোকাল ভূমি অফিস কর্মকর্তা বা প্রশাসনকে জানিয়ে উল্টো রোষানলে পড়তে হয়েছে অভিযোগকারীদের।

একটি শক্তিধর মাদক সিন্ডিকেট প্রত্যেকদিন পৌঁছে দিচ্ছে এ মাদক। টাকার অভাবে মাদকসেবীরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

উজ্জলপুর বাগের মোড়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানদার বলেন, পুলিশের কয়েকজন মাঝেমধ্যে এলাকায় এসে এ সমস্ত চিহ্নিতদের সাথে কথা ও চা খেয়ে চলে যাওয়া বিষয়টি রহস্যজনক। পুলিশ দু’একটি সেবনকারীদের ধাওয়া করতে দেখা গেলেও চালান ও বিক্রয় উৎস বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিষয়টি বাঁকড়া বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকানে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁকড়া তদন্ত কেন্দের আইসি’র মানব কুমার নামে এক কনস্টেবল চষে বেড়ান এলাকার সব স্থানে। তিনি সকল ক্ষেত্রের আদায়কারী হিসেবে পরিচিত। কেউ রাস্তার ধারের গাছ কাটলে, বালি তোলা, বাজারে নতুন ঘর করা, আদম ব্যবসায়ী, বোম্বে নারী কালেকশন, বাজার পরিবহন, চোরাচালান, বিবাহ অনুষ্ঠানে কন্যার বয়স কম থাকা সকল ক্ষেত্রে তার আদায়ের সরব উপস্থিতি প্রকাশ্য বলা চলে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

মাটশিয়ায় কপোতাক্ষ নদের ধারে, ঝাঁপা ফেরিঘাট, বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের পিছনে, পুরাতন আইসি ক্যাম্প, সরকারি দাতব্য চিকিৎসালয় মাঠের পিছনে, সোনাকুড় ব্যাটকিমারী বিলের একটি ঘেরে, উজ্জ্বলপুর বাগের মোড়ে, দিগদানা বাজার ও চাপাতলা ঘাট, দক্ষিণ বাঁকড়ার কয়েকটি স্পটে মাদকসেবীদের আখড়া বলে অনেকে জানিয়েছেন।