মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও ইউএনও মুখোমুখি

::কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি::

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বিডিআর এর অবসরপ্রাপ্ত নায়েক শেখ নুরুল ইসলামকে গ্রেফতারের আদেশ প্রদান ও হাতকড়া পরানোকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সমঝোতা বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ বৈঠক হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার শীতলপুরে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম (৭০) এর বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরদার মোস্তফা শাহিন। বসতবাড়ির পানি অপসারণ সংক্রান্ত কারণে মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলামকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরদার মোস্তফা শাহিন এবং জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না কারায় মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলামকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয়রা হাতকড়া পরানোর প্রতিবাদ জানান। কিছু সময়ের মধ্যে প্রতিবেশি এক মহিলা জরিমানার টাকা দিলে ওই মুক্তিযোদ্ধার হাতকড়া খুলে দেয়া হয়।

যুদ্ধাহত একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হাতকড়া পরানোর ঘটনা জানাজানি হলে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু নিরসনের জন্য গত ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিতভাবে জানান মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ।

জেলা প্রশাসক ১২ সেপ্টেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী ও ইউএনও সরদার মোস্তফা শাহিনকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সমঝোতায় বসেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই তিনি ইউএনও কে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ছেড়ে চলে যান ডিসি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ জরুরি সভায় বসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দ্রুত অপসারণ না করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, আইন সবার জন্য সমান। সাধারণ মানুষ অন্যায় করলে যেমন শাস্তি পাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রেও একই শাস্তি হবে।