যশোরে উদ্ধার চুয়াডাঙ্গার স্কুলছাত্রী বাবার জিম্মায়

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোরে উদ্ধার হওয়া সেই স্কুলছাত্রীকে তার বাবার জিম্মায় দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে তার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছ থেকে জিম্মায় নেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল।

তবে ওই ছাত্রীকে কী কারণে অপহরণ করা হয়েছিলো সে বিষয়টি জানা যায়নি। ওই ছাত্রীর সাথে কথা বলার পর সে যে বিবরণ দিয়েছে সে বিষয়টিও অন্য রকম।

ছাত্রী জানায়, সে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঝিনুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার সকালে সে চাঁদবাড়িয়া কোচিং সেন্টারে লিপি ম্যাডামের কাছে কোচিং করতে যায়। কোচিং সেন্টারের সামনে তিন যুবক এসে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখায়। তার কাছে থাকা স্কুল ব্যাগ নিয়ে ফেলে দেয়। বলে আমাদের কথা না শুনলে তোর মা ও ভাইকে হত্যা করা হবে। সে সময় মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভাই ও মাকে দেখায়। সে ভয় পেয়ে গিয়েছিল।

বলা হয় দুপুরে আবার আসবো। আমরা যা বলবো তাই করবে। দুুপুরে তার বাড়ির সামনে গিয়ে ফের ভয়ভীতি দেখায়। অস্ত্র দেখিয়ে একটি অটোতে উঠতে বললে সে অটোতে উঠে। এরপর চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে একটি কোড নম্বর (৩২৯১) দেয় তাকে। একই সাথে একটি ব্যাগ দিয়ে এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে দেয় তাকে দেয়ার জন্য। সে ওই ব্যক্তির কাছে কোড নম্বর বলে এবং মিল পাওয়ায় ব্যাগটি দিয়ে দেয়। ব্যাগটির বেশ ওজন ছিল। এরপর ফের তাকে একটি অটোতে উঠানো হয়। এরপর তিনি কিছু বলতে পারে না। তার চোখ হাতপা বাঁধা হয়।

যশোরে এসে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে একটি চিরকুট লিখে দেয় অপহরণকারীরা। চিরকুটে লেখা ছিল ‘কোন চালাকি করবি না।’ সন্ধ্যার দিকে সে ঘর থেকে বাইরে বের হয়। দেখে একটি ধানের ক্ষেত। সেখানে থেকে শংকরপুর বাসটার্মিনালের পাশে একটি ইজিবাইকের গ্যারেজে উঠে। তখন তার মুখ ও হাত বাঁধা ছিল। পরে শংকরপুর ছোটনের মোড় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অফিসে নেয়া হয়। সেখান থেকে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার জানিয়েছেন, ওই মেয়ের সাথে কথা বলে তার পিতাকে সংবাদ দেয়া হয়। মেয়েকে না পেয়ে তার পিতা চুয়াডাঙ্গা থানায় একটি জিডি করেছিলেন। সেখান থেকে তার সাথে পুলিশও আসে যশোরে। বৃহস্পতিবার রাতে পিতার জিম্মায় ওই মেয়েকে দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে কাহিনী শুনে এলোমেলো মনে হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করবে।