৩৫ বছরের শিক্ষকতার ইতি টানলেন গাজী আব্দুস সাত্তার

::এম আলমগীর, বাঁকড়া::

বর্ণাঢ্য ৩৫ বছরের শিক্ষকতা পেশা শেষ করলেন উপাধ্যক্ষ গাজী আব্দুস সাত্তার। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

জানা যায়, বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম গাজী আব্দুস সাত্তার। তিনি ১৯৯৩ সালে কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস শেষ করেন।

গাজী আব্দুস সাত্তার ১৯৬৯ সালে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত শাহাদৎ হোসেন গাজী ও মা মৃত রহিমা বেগম। ৮ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সেজো।

গাজী আব্দুস সাত্তার ১৯৭৬ সালে এসএসসি, ১৯৭৮ সালে এইচএসসি, ১৯৮১ সালে অর্নাস (অর্থনীতি) ও ১৯৮২ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি মুক্তারপুর গোয়ালবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৮৭ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি গ্রহণ করেন।

১৯৯৩ সালে বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি উপাধ্যক্ষ হিসেবে কলেজে যোগদান করেন। সে সময় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুর রাজ্জাক, অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং এলাকার সুধীজনদের সঙ্গে থেকে তিনি কলেজ গঠণ অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

উপাধ্যক্ষ গাজী আব্দুস সাত্তার শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সমাজ সেবা করেছেন। তিনি মণিরামপুর উপজেলার ৮নম্বর হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৭ থেকে ২০০২ এবং ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন সম্মাননাও পেয়েছেন।

গাজী আব্দুস সাত্তার ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক। স্ত্রী আলেয়া বেগম মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী। ছেলে ঢাকা ড্যাপোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাস করেছে। বড় মেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ইন্টার্নি করছে। ছোট মেয়ে খুলনা নর্থওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছে।

গাজী আব্দুস সাত্তার দৈনিক স্পন্দনকে জানান, বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ আমার জীবনের আরেকটি অংশ ছিল। কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিতে হয়েছে। চিরাচারিত নিয়মে আমাকে অবসরগ্রহণ করতে হয়েছে কিন্তু আমার মন পড়ে থাকবে কলেজে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আমি কলেজের সাথে থাকতে চাই।