মোটরসাইকেল আটক করায় পুলিশের ওপর হামলা, ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে

::ফরহাদ খান, নড়াইল::

কাগজপত্র ঠিক না থাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল মাহমুদ তুফানের এক সমর্থকের মোটরসাইকেল আটক করায় ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান গুরুতর আহত হয়েছেন।

এসময় পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এতে মাথাসহ দুই হাতে জখম অবস্থায় মনিরুজ্জামানকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট শাহ জালাল, এটিএসআই সরোয়ার আলম এবং একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তুফানকে প্রধান আসামি করে ৯জনের নামে মামলা দায়ের করেন আহত পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান।

অন্য আসামিরা হলেন- নাজমুল, মেহেদী, নূর আলম, লিমন, সবুজ, তনু, রাজীব ও রনি।

এদের বাড়ি নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় এবং ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক।

এর মধ্যে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তুফান এবং নাজমুল ও মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই রজত কুমার মন্ডল জানান, সরকারি কাজে বাঁধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বলপ্রয়োগ এবং পিটানোর ঘটনার ৯জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত তুফানসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য্য করেন। এছাড়া জামিন শুনানির দিনও মঙ্গলবার ধার্য্য করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নড়াইল শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এ সময় কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেলসহ এক যুবককে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি ওই যুবক মোবাইল ফোনে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল মাহমুদ তুফানকে জানালে তুফানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের সাথে ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করেন।

একপর্যায়ে তোফায়েল মাহমুদ তুফানসহ তার লোকজন লাঠি ও কাঠ দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামানকে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের মাথা ও দুই হাত গুরুতর আহত হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।