যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ যশোরের বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে, মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে যশোরের এক বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে। এঘটনায় নির্যাতিত স্ত্রী বিজিবি স্বামীসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সিরাজগঞ্জ নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। এতে আসামি করা হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার নিজামগাতী গ্রামের মৃত আবু বক্কর সেখের ছেলে বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদ ছাড়াও বোন বুবলী খাতুন, ফাহিম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, শরিফুল ইসলাম, রুমা খাতুন, কামরুল হাসানকে। ঘটনা তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ‘খ’ অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের ভার দেয়া হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা: তানজিনা খাতুন ১২ সেপ্টেম্বর বাদী ও সাক্ষীদের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা শোনেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ সদরের জানপুর গ্রামের সাংবাদিক মাসুদ রানার কন্যা ইশরাত জাহান শ্রাবণীর সাথে বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায় নির্যাতন করতে থাকে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ঘরের দরজা, ফ্রিজ,শোকেজসহ ঘরের আসবাবপত্র কিনে দেয়া হয়। এতেও মন ভরেনি যৌতুলোভী স্বামী ও তার বড় বোনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আরো যৌতুকের লোভে স্ত্রীকে মারধর করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় শ্রাবণীকে। ৪ বছর বাবার বাড়িতে কাটানোর পর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পিত্রালয় থেকে স্বামী বিজিবি সদস্য ফারুক আহমেদের সাথে সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে যশোরে আসে। স্বামীর কর্মস্থল যশোর সদরের ঝুমঝুমপুরের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিকের ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। কিন্তু এই বাড়িতে আসলে বড় বোন বুবলী ও তার পরিবারের সদস্যদের কথা মত তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ৯জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্য মারপিট করতে থাকে। সেখানে তার ১৩ বছরের শ্যালিকা চৈতি বাঁধা দিলে তাকেও মারধর করে তাদের কান্নাকাটি ও ডাক চিৎকারে পাশের ফ্ল্যাটের অন্যান্য সদস্যরা জানতে পারলে প্রাণে রক্ষা পায়। এসময় চৈতী ফোন করে বিষয়টি তার বাবা সাংবাদিক মাসুদ রানাকে ফোন করে জানায়। তিনি বিষয়টি যশোর কোতয়ালি থানার ওসিকে ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। এবং তার দুই মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বার বার অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে ওসি মনিরুজ্জামান আশ্বাস দিলেও তিনি তাদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করেননি। পরবর্তীতে ওসিকে পুনরায় ফোন দিলে তিনি বিজিবি ৪৯ ব্যাটালিয়ানের টু আই সি মেজরের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তখন নির্যাতিতার পিতা ফোন করে তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাঁর দুই মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানান। তিনি ব্যাপারটা দেখছি বললেও তিনি নির্যাতিতা দুই বোনকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেননি। এরপর তিনি উপায়ন্তর না পেয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে ফোনে অনুরোধ করেন তার মেয়েদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। তখন অপর ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া বিজিবির হাবিলদার বনি আমিনের ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে ২৭ আগস্ট শ্রাবণী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
শ্রাবণীর বাবা সাংবাদিক মাসুদ রানা জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে মামলা তুলে নেয়ার জন্য। এঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে ৭ ধারা করবেন বলে জানান মাসুদ রানা।