বাঁকড়ায় সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের উদ্বোধন শনিবার

  • সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ
  • আগে থেকেই সেবা পাচ্ছে ৬ ইউনিয়নের ২৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক

রেজওয়ান বাপ্পী ও এম আলমগীর

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বাঁকড়ায় নির্মিত পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের কার্যক্রম শুরু হলেও আজ উদ্বোধন হচ্ছে। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের প্রচেষ্টায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিস নির্মাণ করা হয়।

আর ২০১৯ সালে ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া এ সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার। তবে আগে থেকেই সেবা পাচ্ছে ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। এতে এলাকাবাসী দারুণ উচ্ছ্বাসিত ও আনন্দিত।

জানা গেছে, যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে এ অঞ্চলের গ্রাহকদের উপকেন্দ্র ছিলো ঝিকরগাছায়। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো এ ২৫ হাজার গ্রাহক। কারণ হিসেবে জানা যায়, এ অঞ্চলে সাবজোনাল অফিস না থাকায় বিদ্যুতের যেকোনো সমস্যায় যে যার মতো বিদ্যুৎ বন্ধ করে কাজ করতো।

এতে করে এলাকার মানুষ বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে অতিষ্ট ছিলো এলাকাবাসী। বাঁকড়ায় সাবস্টেশন স্থাপিত হওয়ায় এখন তাদের বিদ্যুতের ভোগান্তি কমেছে। এতে বদলে গেছে ওই এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকসেবা। গ্রাহকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা। ফলে এ সেবায় স্বস্তি পাচ্ছেন তারা।

সাবজোনাল অফিসের কার্যক্রম শুরু হলে লাইনে যেকোনো সমস্যা হলে দ্রুত লাইন বন্ধ করা যাবে এবং খুব দ্রুত এর সমাধান করা যাবে। এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্রাহকদের বিদ্যুতবিহীন থাকতে হবে না। মিটার আবেদন, বিদ্যুৎবিল থেকে শুরু করে সকল দাফতরিক কাজ সাবজোনাল অফিস থেকেই করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। তাই তারা সাবেক এই সাংসদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

জানা যায়, ঝিকরগাছা ও মণিরামপুর উপজেলার একটি বড় এলাকা নিয়ে বাঁকড়া অঞ্চল। ঝিকরগাছার বাঁকড়া, হাজিরবাগ, নির্বাসখোলা, শংকরপুর ইউনিয়ন এবং মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর, মশ্মিমনগর ও ঝাঁপা ইউনিয়নের মানুষের অবাধ চলাচল এ বাজারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের তৎকালীন সাংসদ মনিরুল ইসলাম অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এর অংশ হিসেবে বাঁকড়া বাজারে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিআরডিপির অবকাঠামো উন্নয়ন, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবন, বাঁকড়া জে.কে হাইস্কুলে দুটি চারতলা ভবন, বাঁকড়া-হাজিরবাগ আইডিয়াল গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে চারতলা ভবনসহ এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। বাঁকড়ায় সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিস এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি ছিল। সেই দাবির গুরুত্ব দিয়ে মনিরুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদে একাধিকবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং মন্ত্রণালয়ে বার বার যোগাযোগ করে গ্রাহকদের ভোগান্তি দূর করতে এ সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের অনুমোদন করান।

সরেজমিনে জানা যায়, বাঁকড়া বাজারের রায়পটন মৌজায় সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এ বছরের ৩০ জুন। সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ ক্ষমতা ১০ এমভিএ। বর্তমানে লোড রয়েছে ৫.৫ মেগাওয়াট। সরকারের ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৬৮ টাকা ব্যয়ে এ স্টেশন ও সাবজোনাল অফিসের আওতায় ১০৭ বর্গ কিলোমিটারের ৪০০ কিলোমিটার লাইন বিস্তৃত।

অফিস সূত্রে জানা যায়, আগে যশোর থেকে ৩৩/১১ কেভি লাইন ঝিকরগাছার নাভারণে আসতো। নাভারণ থেকে বিদ্যুৎ এ এলাকায় সরবরাহ করা হতো। ফলে গ্রাহকরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতেন।

এ ব্যাপারে বাঁকড়া সাবজোনাল অফিসের লাইন টেকনিশিয়ান ইসমাইল হোসেন দৈনিক স্পন্দনকে বলেন, বাঁকড়া সাবজোনাল অফিস থেকে সকল কার্যক্রম সততার সাথে পরিচালিত হবে। কোনো ঘুষ, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানিমুক্ত একটি অফিস উপহার দিতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হায়দার আলী দৈনিক স্পন্দনকে বলেন, গ্রাহকদের কষ্টের দিন শেষ। তাদের আর কষ্ট করে ঝিকরগাছায় যেতে হবে না। অফিসিয়াল সকল কাজ বাঁকড়া সাবজোনাল অফিস থেকে করা যাবে।

বাঁকড়া বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা আসাদুজ্জামান জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো এটি। সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিস নির্মাণ করায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সাংসদ অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরকে এ এলাকার মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগে সংসদ সদস্য থাকাকালীন আমি আমার নির্বাচনী দুই উপজেলায় (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে পেরেছি। এজন্য আমি ভাগ্যবান। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী এশতেহারে বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশকে ডিজিটাল করতে প্রথম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিলো ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া। যশোরের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দেখে বাঁকড়া এলাকায় একটি সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিস নির্মাণের কথা মাথায় আসে। এরই ফলপ্রসুতে মহান জাতীয় সংসদে এ দাবি উত্থাপন ও শেখ হাসিনা সরকারের সফল বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাবস্টেশন ও সাবজোনাল অফিস স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকারের সকল উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে মনিরুল ইসলাম মনির আশা প্রকাশ করেন।