দখল দূষণে এককালের খরস্রােতা কপোতাক্ষ এখন মৃতপ্রায়

::বাবুল আক্তার, চৌগাছা::

যশোরের চৌগাছা উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে বয়ে যাওয়া এককালের খরস্রােতা কপোতাক্ষ নদ এখন মৃতপ্রায়! দখল, দূষণ আর পলি জমার কারণে নদের এ অবস্থা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর সীমান্তের তাহেরপুর গ্রামে ভৈরব নদ থেকে কপোতাক্ষ নদের জন্ম। এখান থেকে দুটি নদী পাশাপাশি বয়ে এসে উপজেলার মুক্তদাহ নামক স্থান থেকে ভৈরব পূর্বদিকে মোড় নিয়ে মর্জাদ বাওড়ের পাশ ঘেঁষে যশোর শহরের দিকে চলে যায়।

আর কপোতাক্ষ নদ চৌগাছা উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে ঝিকরগাছা, মণিরামপুর, কেশবপুর, পাটকেলঘাটা, তালা, কপিলমুনি ও পাইকগাছা হয়ে সুন্দরবন এলাকায় গিয়ে শিবসা নদীর সাথে মিশে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

কপোত অর্থ কবুতর আর আঁখি অর্থ চোখ। অর্থাৎ কপোতের আঁখির মত স্বচ্ছ পানি হওয়ার কারণে এ নদের নামকরণ করা হয় কপোতাক্ষ।

বৃটিশ আমলে এ নদের উৎপত্তিস্থল তাহেরপুর গ্রামে ইংরেজরা চিনির কল গড়ে তোলে। এখান থেকে চিনি বহনের জন্য তারা বড় বড় জাহাজ ব্যবহার করতো। জাহাজ নোঙর করার স্থানগুলো আজো দৃশ্যমান আছে। কিন্তু কপোতাক্ষের সেই স্বচ্ছ নির্মল পানি এবং জোয়ার ভাটার সেই টান আর নেই। নিচে জমেছে পলি, উপরে ফেলছে পৌর শহরের আর্বজনা, পানিতে মিশিয়ে দিচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনের দূষিত ময়লা পানি। সেই সাথে সুযোগ সন্ধানীরা দখল করে নিচ্ছে নদীর দুই পাড়। এভাবেই মৃত্যুর প্রহর গুণছে মধু কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ।

কপোতাক্ষ নদ এক সময় চৌগাছাবাসীর গর্ব হলেও আজ যেন সবাই ভুলতে বসেছে তার অবদান। সে সময় চৌগাছার ব্যবসা বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র ছিল এ নদ। সকল প্রকার পণ্য আনা নেয়া হতো এ কপোতাক্ষ নদ দিয়ে। নদীর তীরে বসবাসকারী শত শত জেলে পরিবারের সংসার চলতো এ নদীতে মাছ ধরে। নদী তীরের সেসব জেলে পল্লীতে এখন হাহাকার। নদীতে মাছ না থাকার কারণে তারাও বেকার অনেকে পেশা বদল করে অন্য পেশা ধরেছে।

নদীতে আর্বজনা ফেলার ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল জানান, শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন প্রস্তুতির কাজ চলছে। খুব শিগগিরই কাজ সম্পন্ন হবে। ডাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নদী সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মাস্টার আব্দুল জলিল বলেন, কপোতাক্ষকে বাঁচাতে হলে এখনই নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে হবে, পলি খনন করতে হবে এবং আর্বজনা ফেলা ও দূষিত পানি নদীতে দেয়া বন্ধ করতে হবে।