বৃক্ষপ্রেমিক সিদ্দিকের এগিয়ে চলা

  • বকুল গাছে ছেয়ে গেছে তিন জেলা
  • শুরু হয়েছে তাল চারা রোপণ

::পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি::

নাম তার সিদ্দিক মোড়ল, বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই, কেউ বলেন সিদ্দিক পাগল। কেউ বা বলেন বকুল প্রেমিক। তবে যে নামেই ডাকুক না কেন সে ডাকেই সাড়া দেন তিনি। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার।

দারিদ্রের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি তিনি। ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল গাছ লাগানো। তার আয়ের একমাত্র মাধ্যম বাজারে বাজারে শাক বিক্রি করা। শাক বিক্রি করে চলে স্বামী, স্ত্রী ও ২ সন্তানের সংসার।

সংসার চালিয়ে কিছু টাকা থাকলে তা দিয়ে কেনেন বীজ। মাত্র ১০ শতক জমিতে বসত বাড়ি তার। এ বাড়ির আঙ্গিনায় বকুলের বীজ ছড়িয়ে তৈরি করেন চারা। তারপর খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্টেডিয়াম, অফিস আদালত পাড়ায় লাগান বকুল গাছ। গত ৩০ বছর ধরে কখনও পায়ে হেটে, কখনও গাড়িতে চড়ে বাঁশের দু’মাথায় চারা ঝুলিয়ে তা বিভিন্ন অঞ্চলে লাগিয়ে বেড়ান সিদ্দিক।

সিদ্দিক বাধা-বাধা ভাষায় কথা বলেন। অনেক দরিদ্র তিনি, দরিদ্রতার নির্মমতা কি তা সারাটা জীবন তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। তারপরেও তার স্বপ্ন দেখা থেমে নেই। এবার তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে তালের চারা লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন। চলতি বছর তিনি তাল কিনে চারা বানাচ্ছেন।

এই চারা বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক ও ওয়াপদার রাস্তায় লাগাবেন। যা পথচারী বা সাধারণ মানুষ খাবে ও বজ্রপাত থেকে মানুষ প্রাণে বাঁচবে বলে আশা করেন। চারা রোপনের স্বীকৃতি স্বরূপ কয়েক বছর আগে বিটিভি’র জনপ্রিয় ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে তার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হয়।

গাছ পাগল সিদ্দিক এ প্রতিবেদক কে বলেন, স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা বকুল ফুল দিয়ে মালা বানাবে, বকুল খাবে, বকুল তলায় বসে অবসর কাটাবে এতেই আমার আনন্দ। দক্ষিণাঞ্চলে আমার দেয়া গাছ সব প্রতিষ্ঠানে আছে, আমার গাছগুলো আজ মাথা উঁচু করে প্রায় যেন আকাশ ছুঁইছে, কিন্তু দরিদ্রতা আমাকে ছোট্ট গোন্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলেছে।