ভৈরব নদের ৫৯ কিলোমিটার খনন শেষ, যশোর শহরাংশ নভেম্বরে

  •  বাকি খননে নদী কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন
  •  নদ পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের জায়গা সংকট
  •  শহরাংশে মাটি সরানো বড় সমস্যা

::মিরাজুল কবীর টিটো::

যশোরের ভৈরব নদের ৯২ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৯ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। নদের বাকি ৩৩ কিলোমিটার খনন কাজ নদী রক্ষা কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী নভেম্বরে শুরু করা যাবে এমনটি আভাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। কাজটি নভেম্বরে শুরু করা গেলে ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে শহরাংশে নদের খননের ক্ষেত্রে মাটি রাখা নিয়ে চিন্তিত পাউবো। এছাড়াও নদ পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নে জায়গা সংকট হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

ভৈরব নদ খননের লক্ষে গত ২৮ মার্চ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এপ্রিল থেকে শুরু হয় খনন কাজ। স্কেভেটর দিয়ে নদের ৯২ কিলোমিটার খননের জন্য ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাউবোর হিসেবে রূপদিয়া ও বসুন্দিয়া এলাকার ৫৯ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে।

বর্তমানে মাটি সাজিয়ে রাখার কাজ চলছে। বাকি ৩৩ কিলোমিটারের খনন কাজ নভেম্বরে শুরু হতে পারে। তবে এ কাজের বড় অন্তরায় শহর অংশের ভৈরব নদের পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। এ কাজের জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষ নদী রক্ষা কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। কমিশন উচ্ছেদের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে কাজ শুরু করবে পাউবো।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, ভৈরব নদ খনন কাজ শুরু হলে নানা সংকটের সৃষ্টি হবে। ভৈরব নদের প্রশস্ততা ১৫০ ফুট ও প্লাবন ভুমির জন্য আরো ৬০ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। কিন্তু ভৈরব নদের শহরাংশে সৌন্দর্যবর্ধন করার জায়গার সংকট সৃষ্টি হবে। নদ ও প্লাবনভূমি বাদ দিলে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকবে না।

এছাড়াও জায়গা সংকটের কারণে নদ খননের পর মাটি ও আবর্জনা রাখতে বেগ পেতে হবে। হয়তো খননের সাথে সাথে ট্রাকে করে মাটি অপসারনের ব্যবস্থা রাখতে হতে পারে। আবার অনেকের ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাও ব্যবহার করতে হতে পারে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, শহরের বাসিন্দাদের বিনোদনের জন্য ভৈরব পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন বাস্তবায়নে জায়গার সংকট হতে পারে। তবে সীমিত জায়গাতে হলেও এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।