যশোরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে মিলনমেলা

  • যশোরে তৃণমূল থেকে দলকে সুসংগঠিত করার আহ্বান

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

বিভেদ-কোন্দল দূর করে তৃণমূল থেকে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে শনিবার এক প্রতিনিধি সম্মেলনে মুক্ত আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় শহরের হোটেল ওরিয়ন ইন্টারন্যাশনালে এ প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধি সম্মেলনটি একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন বিএনপি-জামায়াত, স্বাধীনতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধীদের কেউ আওয়ামী লীগে ঢুকতে না পারে।

ঢাকা মহানগর যু্বলীগের নেতা জি কে শামীমের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শামীম ছিলেন বিএনপির যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা। অঢেল অবৈধ টাকা থাকার কারণে তিনি আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়ে অপকর্মে জড়ান। ইতিমধ্যে তিনি ধরা পড়েছেন। শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন অবৈধ অর্থ উপার্জনকারী, সন্ত্রাসী, ক্যাসিনো বিজনেসকারী আওয়ামী লীগের বড় নেতা হলেও ছাড় নয়।

মিলন বলেন, দলের মধ্যে থেকে কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে থাকেন এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। তা না হলে নেত্রী কাউকেই ছাড় দেবেন না।

প্রতিনিধি সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। প্রাচীন এ দলটিতে তৃণমূলে লক্ষকোটি নেতাকর্মী আছে। যারা ব্যক্তিগত কোনো সুবিধা চায় না। তারা চায় দলের মাধ্যমে দেশের জনগণের কল্যাণ হোক।

তিনি আরো বলেন, তৃণমূল থেকে প্রকৃত নেতা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে অনেকে আছেন যারা দলের প্রকৃত কর্মী ও সমর্থক। কিন্তু তাদের মূল্যায়ন করা হয় না। যদি তাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় তা হলে এ শ্রেণির প্রকৃত কর্মীই দলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।

আওয়ামী লীগের সকল কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেত্রী বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে জেলার নারী নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী নেতৃত্ব এগিয়ে না আসার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা। নারী নেতৃত্ব এগিয়ে আনতে হলে এসব বাধা দূর করতে হবে।

তারা পরামর্শ দিয়ে বলেন, কেবল জেলা পর্যায়েই নারী নেতৃত্ব থাকলেই হবে না, তৃণমূলেও নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তৃণমূল থেকে নারী নেতৃত্ব উঠিয়ে আনতে হবে।

নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু দল চিরস্থায়ী। তাই দলকে জনবান্ধব এবং কর্মীবান্ধব করতে হবে। এজন্য কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যন্ত দলীয় ভিত শক্ত থাকলে যে কোনো দাবি আদায়ে জনগণের পাশে থাকা যাবে। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজাতে এবং সাংগঠনিকভাবে দৃঢ় করতে দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠ পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে।

জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালীর পরিচালনায় প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুখেন মজুমদার, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমেদ কচি, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবু সেলিম রানা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টু, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোদাচ্ছের আলী, জেলা আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম তরফদার, শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, যশোর সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেতারা খাতুন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিলন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল কবির বিজু, সদরের নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা খুশি, যবিপ্রবির শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সভাপতি শিলা আক্তার।

উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবাদুস সবুর হেলাল, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মনির হোসেন টগর, চৌগাছা উপজেলা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আকলিমা টুটুল লাকি, জেলা যুবমহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিনি খান, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন, কায়েস আহমেদ রিমুু, যবিপ্রবির শহীদ মশিয়ূর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি শান্ত দে প্রমুখ।