কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন কাঠের দোকান

::পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি::

দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কেকেএসপি) এর কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে নামমাত্র চলছে ক্লাবের কার্যক্রম।

ক্লাবের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা, দীর্ঘদিন এককভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলের কাছে হার মেনেছে ঐতিহ্যবাহী এ ক্লাবটির সকল কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর ক্লাবটি ঘিরে এলাকার সচেতন মানুষ তাদের ছেলে-মেয়েদের সময় উপযোগী খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখতেন তা এখন যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা ছাড়া কেকেএসপি’র আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন কমিটির মেয়াদ পার হয়ে গেলেও নতুন করে কমিটি গঠনের আগ্রহ নেই কর্মকর্তাদের। সদস্যরা কমিটির মূল দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতাকে দায়ী করছেন। তাদের ইচ্ছে মত কর্মকাণ্ড, বিগত কয়েক বছর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেও ফাইনাল না খেলা, মাসিক মিটিংসহ কোনো প্রকার মিটিং না করায় মুখথুবড়ে পড়েছে ক্লাবটির সকল কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়টি যেন বেদখল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাঠ ব্যবসায়ীরা কার্যালয়ের বারান্দার এক পাশে কাঠের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপর পাশে পানি জমে কচুরিপানা গজে উঠেছে। বর্ষার সময় হাঠু সমান পানি থাকে কার্যালয়ের ঘরে ও বারান্দায়।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৯০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কপিলমুনিসহ আশপাশের খেলা পাগল মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তৎকালীন কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত সরদার রোকন উদ্দীনের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলায় প্রতিষ্ঠিত হয় কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (কেকেএসপি)। ক্লাবটির উদ্বোধন করেন তৎকালীণ পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী। কেকেএসপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ আব্দুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এম বুলবুল আহমদ।

১৯৯২ সালে কপিলমুনির পাবলিক স্টেডিয়ামের একপাশে (বর্তমান পুলিশ ফাঁড়ির পাশে) ক্লাবটির স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীণ সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার পর আমরা সকল সদস্যকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করতাম। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা ফুটবল, মহিলা ভলিবল টুর্নামেন্ট, কপোতাক্ষ নদে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলা। আমরাই প্রথম কপিলমুনির আশপাশের ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরকে কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেই।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ ইকবাল খোকন বলেন, আমি নতুন কমিটি করার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও বিভিন্ন কারণে করতে পারিনি।

সংগঠনটির বর্তমান সহসাধারণ সম্পাদক জগদীশ দে বলেন, কমিটির মেয়াদ অনেক দিন আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে এক প্রকার গড়িমসি করে। তাছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তা ক্লাবের কর্মকাে সক্রিয় নয়। তাই অনতি বিলম্বে সক্রিয় সদস্যদের দিয়ে কমিটি করলে স্বনামধন্য সংগঠনটি তার সুনামের জায়গায় ফিরে আসবে।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম আজাদ হোসেন বলেন, বাজার মাটি দ্বারা উঁচু করার কারণে ক্লাবটির ঘর নিচে পড়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি বাধে।

তিনি আরো বলেন, আমি দ্বায়িত্ব নেয়ার পূর্বে ঘরে কোনো আসবাবপত্র, চেয়ার, টেবিল ছিল না। আমি আসার পর ঘরে চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে সরকারি কোনো অনুদান না পাওয়ার কারণে উন্নয়ণ ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ক্লাবটির উন্নয়ণের জন্য বাজারের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।