জনবল সংকটে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

  • প্রয়োজন ৬০ চিকিৎসক ও ১০০ সেবিকা

 

::বিল্লাল হোসেন::

প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসক কর্মচারী সঙ্কটের কবলে পড়েছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোড়াতালি দিয়ে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করে তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, চলতি মাসে ৬০জন চিকিৎসক, ১ জন উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, ১০০ জন সেবিকা ও ১৬৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এর আগেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী পরিচালকের পদ স্থায়ীভাবে পূরণের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছিলো। এখানো কোনো সাড়া মেলেনি।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৫৪টি। কর্মরত আছেন ৪৪জন। শূন্য রয়েছে ১০ চিকিৎসকের পদ। এতো স্বল্প পরিমানে চিকিৎসক দিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালানো কষ্টদায়ক হয়ে পড়ছে। কেননা বর্তমান সময়ে প্রতিদিন গড়ে সরকারি এ হাসপাতালে সাড়ে ৫০০ রোগী ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। এ অবস্থার মধ্যে চলতি মাসে চিকিৎসক, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, সেবিকা ও কর্মকর্তা কর্মচারীর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ হলো ১জন তত্ত্বাবধায়ক, ১জন সহকারী পরিচালক, গাইনী বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরো সার্জারি বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিসিন বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, নাক-কান গলা বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, কার্ডিওলজি বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ২জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরো মেডিসিন বিভাগের ১জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইউরোলজি বিভাগের ১জন সিনিয়র কনসালটেন্ট, নাক-কান গলা বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, অর্থোপেডিক বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, চক্ষু বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, জেনারেল সার্জারি বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরো সার্জারি বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, নিউরো মেডিসিন বিভাগের ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট, আবাসিক চিকিৎসক ১ জন ও অ্যানেসথেসিয়া ৩জন।

এছাড়া মেডিকেল অফিসার ও সহকারী রেজিস্টার চিকিৎসক মারাত্মক সঙ্কট রয়েছে। তাদের দায়িত্ব পালন করছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এছাড়া প্রশাসনিক পদে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। একজনের দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন। আবার কেউ কেউ একসাথে একাই তিনরকমের দায়িত্ব পালন করছেন।

তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, বর্তমানে হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে সঙ্কট আর সংকট। কর্মরত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় রীতিমতো হাফিয়ে ওঠার মতো।