সেনা কর্মকর্তা স্ত্রীর মামলায় স্বামীর প্রেমিকা আটক

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সেনা কর্মকর্তার দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলার আসামি মিনাক্ষি মন্ডল আঁখিকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। রোববার দুপুরে আঁখি ভারত থেকে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশে সোপর্দ করে। আঁখি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হরিপাগলা গ্রামের আশিষ কুমার মন্ডলের মেয়ে।

কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব আলম জানান, ৩ সেপ্টেম্বর যশোর সেনানিবাসে কর্মরত লেফটেন্যান্ট নুপুর ইয়াসমিন বাদী হয়ে তার স্বামী নওমুসলিম পার্থিব মন্ডল ওরফে নাহিয়ান ইসলামসহ তিনজনের নামে একটি মামলা করেন। এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন- নাহিয়ানের প্রেমিকা মিনাক্ষী মন্ডল আঁখি এবং আঁখির মা কমা সমাদ্দার।

মামলা হওয়ার সময় নাহিয়ান ও আঁখি ভারতে ছিলো। সে কারণে তাদের আটক করা যায়নি। তবে ইমিগ্রেশন থানায় এ বিষয়ে তথ্য দেয়া ছিল। আঁখি ভারত থেকে রোববার ফেরার পর ইমিগ্রেশন থানা পুলিশ তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশে সংবাদ দেয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট আসামি নাহিয়ানের সাথে নূপুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পূর্বে নাহিয়ান ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিয়ের কিছুদিন পর নাহিয়ান অপর আসামি আঁখির সাথে প্রেমের সম্পর্ক পড়ে তোলে। পরে আঁখি ও তার মা কমলার কুপরামর্শে নাহিয়ান তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে।

প্রায় সময় আঁখির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতো এবং তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। তাকে গালিগালাজ ও চড়থাপ্পড়ও দেয় নাহিয়ান। সংসার ও মানসম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি নির্যাতন সহ্য করেন।

গত ১৫ মে আঁখি ও কমলার পরামর্শে নাহিয়ান তার কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ ও তালাক দিবে বলে হুমকি দেয়। পাঁচদিন পর ২০ মে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আঁখিকে সঙ্গে দিয়ে নাহিয়ান যশোরে তার সরকারি কোয়ার্টারে আসে এবং পূর্বের মতো যৌতুকের টাকা দাবি করে।

তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আঁখি তাকে জাপটে ধরে এবং নাহিয়ান একটি লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। কানে থাপ্পড় দিয়ে জখম করে। সবজি কাটা ছুরি দিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধ ও মধ্যমা আঙুল কেটে রক্তাক্ত জখম করে। পরে বাসা থেকে তারা চলে যায়। তিনি জখম অবস্থায় সিএমএইচ এ ভর্তি হন এবং পরে মামলা করেন।