ঘুষের ২০ লাখ টাকা লেনদেনের খবরে তোলপাড়

  • যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

 

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের ২০ লাখ টাকা লেনদেন হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়েছে। ঘুষের টাকার লেনদেনের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আটককৃতদের মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই সাথে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী ইব্রাহিম হোসেনসহ দুইজনকে বদলি করা হয়েছে বলে জানাগেছে। এঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলে অফিসপাড়ায়।

যাদের আটক করা হয়েছিল তারা হলেন, খুলনার দৌলতপুরের টাউন নওয়াপাড়ার রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহজাদী ইয়াসমিন, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার পরান আলীর ছেলে ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এমএলএসএস রফিকুল ইসলাম এবং অভয়নগর উপজেলার হরিসপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও এলএমএসএস রফিকুল ইসলামের জামাই জহুরুল ইসলাম।

দুদকের যশোরস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত জানিয়েছেন, যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী ইব্রাহিম হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে ফোন দিয়ে জানান, রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের ২০ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বিকেলে ৩টার দিকে সেখানে গিয়ে শাহজাদী ইয়াসমিন, রফিকুল ইসলাম ও জহুরুল ইসলামকে আটক করেন।

তাদেরকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ঘুষের টাকার লেনদেনের কোনো তথ্য প্রমাণ পাননি। শুনেছেন একটি চেক দেয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকার। পরে দুদক পরিচালক বিষয়টি দেখার জন্য উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই ম্যাজিস্ট্রেট রাশনা শারমীন মিথি ও নিলুফার সুলতানাকে জানান।

পরে আদালতে তাদের মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার শেখ জালাল উদ্দীন।

আটক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার শ্বশুর রফিকুল ইসলামের মামাতো বোন শাহজাদী ইয়াসমিন। তার স্ত্রীর বড় বোন রাবেয়া সুলতানার চাকরির জন্য শাহজাদী ইয়াসমিনের কাছে দুই দফা ২০ লাখ টাকা দেন প্রায় সাত মাস আগে। টাকা নেয়ার সময় শাহজাদী তাদেরকে জনতা ব্যাংক খুলনার গল্লামারি শাখার একটি সাদা চেক দেন। চাকরি দিতে না পারায় রফিকুল ইসলাম ব্যাংক থেকে চেকটি ডিজঅনার করান।

তিনি আরো অভিযোগ করেছেন, শাহজাদী ইয়াসমিন আওয়ামী লীগের এমপি শেখ হেলাল, শেখ সেলিমের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক লোকের চাকরি দেয়ার কথা বলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। রেজিস্ট্রি অফিসের রফিকুল ইসলামও ঠিক একইভাবে তাকে খুঁজতে থাকলে মঙ্গলবার তার দেখা পান রেজিস্ট্রি অফিসে। এসময় তাকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন।

দুদকের যশোরস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত সাংবাদিকদের জানান, ঘুষের ২০ লাখ টাকার দেনদেন হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু বিষয়টি তেমন না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়।

এদিকে যশোর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারি ইব্রাহিম হোসেন ও এমএলএসএস রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। এরমধ্যে ইব্রাহিম হোসেনকে কুষ্টিয়া সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এবং রফিকুল ইসলামকে যশোরের কেশবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি করা হয়।

যশোর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পেশকার ইলিয়াস হোসেন জানান, জেলা রেজিস্ট্রার শাহজাহান সরদার মঙ্গলবার ইব্রাহিম হোসেন ও রফিকুল ইসলামকে বদলির আদেশ দিয়েছেন।

যশোর সদর সাবরেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী বদলির কোনো আদেশ পাননি বলে জানিয়ে বলেন, বিকেলে বদলির গুঞ্জন শুনেছি। লিখিতভাবে কোনো আদেশ পাইনি।

দুদকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার অভিযোগে তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।