যশোরের ৭ গ্রামে জমজমাট মাদক ব্যবসা

  • সোহাগ আটকের পর জুয়েলের নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট

 

::বিল্লাল হোসেন::

যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর, এনায়েতপুর, জোত রহিমপুর, মনোহরপুর, রহেলাপুর, কায়েতখালী ও আড়পাড়ায় ইয়াবা ও ফেনসিডিলের জমজমাট ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সেল্টারে থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে এসব মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে। প্রত্যেক মাদক ব্যবসায়ীর রয়েছে এলাকা ভিত্তিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

এদিকে, কুখ্যাত মাদক সম্রাট এনায়েতপুরের মহিদুল পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলহাজতে থাকলেও থেমে নেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে একাধিক মামলার আসামি হাশিমপুরের জুয়েল। জুয়েল এতোটাই ভয়ঙ্কর যে পুলিশও তার হামলা থেকে রেহাই পায়নি।

পুলিশ বলছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। তিনি পুলিশের নজরদারিতে আছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৩-৪ মাস আগে পুলিশের নিয়মিত অভিযানে কোনঠাসা হয়ে পড়ে এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে উল্লিখিত এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকা ভিত্তিক সিন্ডিকেট গঠন করে তারা মাদকের ব্যবসা করছে।

স্থানীয়রা জানান, মনোহরপুরে জুয়েল, রহেলাপুরের রক্সি, কাশিমপুর ও সাতমাইলের রফিকুল, হাশিমপুর বাজার এলাকায় মাসুম, জোত রহিমপুরের শাহাদৎ, কায়েতখালীর মাদক সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে তারক ও রাসেল।

স্থানীয়রা আরো জানান, মনোহরপুর বাজারে জুয়েলের সেল্টারে ইয়াবা ফেনসিডিল বিক্রি করে মুন্না, আনোয়ার ও বার্মিজ। এনায়েতপুরের মাদক সম্রাট মহিদুল পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারই সহযোগী মঈন, মনির, আলম, আকবর, আশিক, পারভেজ, তবিবরসহ অনেকে। বর্তমানে তাদের সেল্টার দিচ্ছেন জুয়েল।

এদিকে, মহিদুল ও তার সহযোগীদের মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিগত দিনে এলাকার নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। তাদের আটকের দাবি নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, এলাকার অনেক প্রভাবশালীরা মাদক সিন্ডিকেটের প্রধানদের অর্থের জোগান দেয়। ফলে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখন কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পায় না। বর্তমানে উল্লিখিত ৭ গ্রামে হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল ও ইয়াবা। ফলে যুবক কিশোররাও মাদকের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নুরুন্নবী জানান, সোহাগ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। সে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো। মাদকের একাধিক মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। সোহাগ সম্প্রতি আটকের পর মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে গেছে। অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের আটকে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে জুয়েল মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে কিনা জানা নেই। তবে খুন, জখমসহ নানা ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দুই মাস আগে জুয়েল ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের এক পুলিশ সদস্যকে মারপিট করে। এরপর থেকে সে আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে।