তালায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় ৬ গ্রামে জলাবদ্ধতা!

তপন চক্রবর্তী, তালা (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরার তালায় পানি নিস্কাশনের পথে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় ছয়টি গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, চল্লিশার বিলের মৎস্য ঘের মালিক মঞ্জুর চেয়ারম্যান নেট-পাটা ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় ফের সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ সেনের নিকট অভিযোগ ও সরেজমিন দেখে আসলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এলাকাবাসি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তালা উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়নের কাজিডাঙ্গা, ভবানীপুর, ঘোনা, নারায়নপুর, ঢেমশাখোলা, গোনডাঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চল্লিশার বিলের পানি নিষ্কাশণ হয় দুটি কালভার্ট দিয়ে । যার অবস্থান যথাক্রমে কাজিডাঙ্গা ও গোনডাঙ্গা এলাকায়। চলতি বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই দুটি কালভার্ট। দুটি কালভার্ট থাকলেও দীর্ঘ দিন যাবৎ যশোরের কেশবপুর এলাকার মঞ্জুর চেয়ারম্যান বিলের প্রায় ১৮ শ’ বিঘা জমির ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। মাছ চাষের সুবিধার্থে ঘের মালিক চল্লিশা বিলের সরকারি কালভার্ট দু’টির মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, আজাহার আলীসহ অনেকে জানান, দু’টি কালভার্টের একটি দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকার পানি চল্লিশা বিলের মধ্যে দিয়ে নাউভাঙ্গার ভেতর দিয়ে ঘোনা হয়ে গোপালপুর খালের উপর দিয়ে কপোতাক্ষ নদে নিমজ্জিত হয়। অপর কালভার্টটি দিয়ে পানি গোনডাঙ্গা হয়ে ঢেমশাখোলা ও ইসলামকাটীর মধ্য দিয়ে সরাসরি কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশিত হয়। তবে দীর্ঘ দিন যাবৎ কালভার্ট দুটির মুখ বন্ধ করে রাখায় চলতি বর্ষা মৌসুমের পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে ইসলামকাটী ইউনিয়নের কাজিডাঙ্গা, ভবানীপুর, ঘোনা, নারায়নপুর,ঢেমশাখোলা,গোনডাঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রুপ নিয়েছে। এতে সেখানকার সরকারি রাস্তাসহ ফসলী জমি তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। অনেক এলাকার নিচু ঘর-বাড়ি তলিয়ে সেখানকার অধিবাসীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঘের মালিক কেশবপুরের মঞ্জুর চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে থেকে জমি হারি করে তিনি মৎস্য ঘের করছেন। তবে পানি নিস্কাশন হচ্ছে না বিষয়টি তার জানা নেই।
ইসলামকাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক সুভাষ সেন জানান,চল্লিশার বিল সব সময় জলাবদ্ধ থাকতো। জলাবদ্ধতার কারণে এখানে কোনো ফসল ফলতো না। তাই এলাকাবাসী ফসল ফলানোর জন্য কেশবপুর এলাকার মঞ্জুর চেয়ারম্যানকে ধান চাষের মৌসুমে সেচ দিয়ে বিল শুকিয়ে দেয়ার স্বার্থে লীজ দেয়। লীজ দেয়ার কারণে এখন চল্লিশার বিলে ধান উৎপাদন হচ্ছে। কালভার্ট দুটির মুখ বন্ধ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, যারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গণপিটিশন করেছে তাদের ওই বিলে কোনো জমি নেই।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমি উপজেলায় নতুন এসেছি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।