ডিএমপি কমিশনার ক্যাসিনোর ‘ক’ না জানলে আমি কীভাবে জানব : মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি ধরা পড়ার পর প্রশ্নের মুখে পড়া ওই ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন বলেছেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, ডিএমপি কমিশনার বলেছেন ক্যাসিনোর ‘ক’ অক্ষরও জানতেন না, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি কীভাবে জানবেন?

ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানের মধ্যে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সভা শেষে এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকার মতিঝিল-ফকিরাপুল এলাকার সাংসদ মেনন, যে এলাকায় বেশিরভাগ ক্লাবের অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সভায় যুবলীগ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পাওয়ার পর ক্লাবের সভাপতি যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন, সেখানে তার ছবিও দেখা যায়। এরপর বিষয়টি সংবাদ শিরোনাম হওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়। ওই পদে থাকার কারণে মেননের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চেয়ে বুধবার এই সাংসদ এবং আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন একজন আইনজীবী।

এদিন ১৪ দলের সভায় ঢাকার ক্লাবগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনোসহ অবৈধ পন্থায় জুয়া খেলা চলে আসার জন্য প্রশাসনের ‘ব্যর্থতা ও নির্লিপ্ততাকে’ দায়ী করা হয়।

সেখানেই রাশেদ খান মেননকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ক্যাসিনো চালানো একটি ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্টতার দায়িত্ব এড়ানোর কোনো উপায় আছে কি না।

জবাবে আওয়ামী লীগ জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন বলেন, “এটা দায়িত্বে থাকার পোস্ট না। আমার আগে মায়াও (আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া) একই পদে ছিলেন। এটা আলঙ্কারিক পদ, এটা কোনো দায়িত্বের পদ না।

“ওখানে দেখবেন একজন সভাপতি আছেন, একজন সাধারণ সম্পাদক আছেন। এটা (চেয়ারম্যান) আলঙ্কারিক পদ। আর আামি তো বলেছি, আমি একদিনই ওই ক্লাবে গেছি, ফিতা কেটেছি, ওই দিনই শেষ।”

সংসদীয় এলাকার মধ্যে এই ধরনের কাজ হচ্ছে সেটা সংসদ সদস্য হিসাবে জানা উচিত ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মেনন বলেন, “আপনাদের কি ধারণা, প্রশাসনের কেউ জানল না, আমি সংসদ সদস্য হিসেবে জেনে ফেলে দিলাম। ব্যাপারটা কি এতই সহজ বিষয়?

“ডিএমপি কমিশনার বলছেন, ক্যাসিনোর ‘ক’ অক্ষর তিনি জানতেন না। তাহলে আমি জানব কীভাবে?”

ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ১৪ দলের এই সভায়ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “আমরা বিস্মিত হয়েছি এই কারণে যে, ঢাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে।”

এর আগে দলীয় এক কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের আরেক জোট শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, পুলিশের ভেতরের ‘কালো বিড়াল’ না ধরলে চলমান এই শুদ্ধি অভিযান সফল হবে না।

তবে র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো ধরা পড়ার পর ঢাকার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, তিনি কয়েক দিন আগে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপর প্রতিটি বিভাগের উপ-কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় কী কী অবৈধ কাজ হয়, তার তালিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তালিকা আসা শুরু করেছে।

শফিকুল ইসলাম পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব থেকে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছেন গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এর আগে চার বছরের বেশি সময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার ছিলেন মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের চাকরি থেকে অবসরের পর জাতীয় নিরাপত্তা সেলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।