২০ বছর পর অপেক্ষার প্রহর থামলো ১৫ চিকিৎসক ও ৭১ কর্মচারীর

  • যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

 

::বিল্লাল হোসেন::

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নয়ন খাতে নিয়োগ পাওয়া ১৫ জন চিকিৎসক ও ৭১ জন কর্মচারী ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসে চাকরিতে যোগদান করেন। স্বপ্ন ছিলো একদিন তারা সরকারি চাকরিজীবী হতে পারবেন।

সেই থেকে শুরু অপেক্ষার প্রহর গোনা। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে ২০ বছর পর থেমে গেল প্রহর গোনা। স্বপ্নপূরণ হলো তাদের।

২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত একটি আদেশপত্রে ওই ১৫ জন চিকিৎসক ও ৭১ জন কর্মচারীর চাকরি রাজস্বকরণ হয়েছে।

এ খবরে চিকিৎসক কর্মচারীর মধ্যে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের চোখে আনন্দ অশ্রু দেখা গেছে। কেন না এখন থেকে তাদের বেতনের টাকার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না। মাস শেষ হলেই বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে শনিবার প্রথম দিনের মতো অফিস করবেন তারা।

রাজস্বখাতে উন্নীতকরণ হওয়া চিকিৎসকরা হলেন চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট হিমাদ্রি শেখর সরকার, প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট হাসান আব্দুল্লাহ, মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট মধুসূদন পাল, আবাসিক সার্জন নিলুফার ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার মাহফুজুর রহমান, উবায়দুল কাদির উজ্জল, ওহিদুজ্জামান, মনিরুজ্জামান, এমএ গোলাম কিবরিয়া, আবু হায়দার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার রাশেদ রেজা, মেডিকেল অফিসার কল্লোল কুমার সাহা, আব্দুল কাদের, তমিজ উদ্দিন শেখ ও আ ন ম বজলুর রশীদ।

কর্মচারীরা হলেন-মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নুরুজ্জামান, হিসাবরক্ষক রুহুল আলম, স্টোনোটাইপিস্ট শাহনাজ পারভীন, স্টুয়ার্ড শাহ্জাহান আলী, কার্ডিওগ্রাফার দিপক রায়, ওয়ার্ড মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম, ড্রাইভার হারুন অর রশিদ, অফিস সহকারী মোস্তাকুল হক, রেকর্ড কিপার মুরাদ হোসেন, টেলিফোন অপারেটর হাসানুর রহমান, সহকারী হিসাবরক্ষক কামাল হোসেন, ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম খান, টেইলার/দর্জি আব্দুল হাই, স্টেরিলাইজার মেশিন ম্যান সেলিম রেজা, জমাদ্দার সরদার ইমরান হাসান, নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল হালিম, নাসির উদ্দিন, গোলাম ছরোয়ার, হারুন অর রশিদ, আব্দুল মান্নান, মেহেদি হাসান বুলবুল, শরিফুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক মোখলেছুর রহমান, মসফিকুর রহমান, আশিকুজ্জামান, আজিজুল ইসলাম, তপন কুমার রায়, শাহাজান মন্ডল, কামরুজ্জামান, নাসির উদ্দীন খান, আবুল কালাম আজাদ, আয়া, নার্গিস পারভীন, আছমা খাতুন, হেলেনা পারভীন, রেকোয়া বেগম আয়না, শাহানারা খাতুন, মিসেস মলি বেগম, তাছলিমা খাতুন, আঞ্জুয়ারা খাতুন, পূর্ণিমা রানী মিত্র, সহকারী বাবুর্চি জিল্লুর রহমান, মিজানুর রহমান, বাবুল শেখ, ফারুক হোসেন, মালী রফিকুল ইসলাম, প্রভাত কুমার , পরিছন্নতা কর্মী মিলন লাল হেলা, নুরুল ইসলাম, স্বপন কুমার দাস, আয়েশা বেগম, শাহাজাহন আলী, কৃষ্ণ দেব, গোপাল চান দেব, দীপক কুমার বিশ্বাস, মাহাতাপ খান, আব্দুল আলীম, রাজেন বিশ্বাস, প্রতিমা রানী, হারুন অর রশিদ, আসাদুজ্জামান, সালমা খাতুন, জরিনা খাতুন, রেনু বালা কেশব চন্দ্র বিশ্বাস ও কৃষ্ণপদ দাস।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নুরুজ্জামান জানান, উন্নয়নখাতে তার বেতন স্কেল ছিলো ১২ হাজার ৫০০ টাকা। চাকরি রাজস্বকরণ হওয়ায় এখন তার বেতন স্কেল হবে সাড়ে ২৮ হাজার টাকা। এছাড়া সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাবো। তাতে করে সংসারে খুব বেশি অভাব দেখা দেবে না।

কার্ডিওগ্রাফার দিপক রায় জানান, চাকরিতে যোগদানের ১৮ মাস পরে অনিয়মের অভিযোগে তাদের নিয়োগ বাতিল করে। চাকরি বহালের দাবিতে উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় তাদের পক্ষে রায় আসে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে রিট করা হয়। মোট ৬৬ মাস মামলা চলার পর ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেয়। ওই সময় কোর্টের আদেশে তারা ৬৬ মাসের বেতন ও ১১ মাসের বোনাসের টাকা পায়। তারপর থেকে চাকরি রাজস্বকরণের জন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়। অবশেষে কষ্ট ও পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক জানান, উন্নয়ন খাতে চাকরি করাকালীন তারা প্রতিমাসে নিয়মিত বেতন ভাতা পেতেন না। কোনো কোনো সময় ৩/৪ মাসের বেতনের টাকাও এক সাথে দেয়া হয়েছে। এখন তাদের আর চিন্তা নেই। প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন পাবেন। ধার দেনা করে চলতে হবে না। তারা এখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন আমরা সরকারি কর্মচারী।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, দীর্ঘ ২০ বছর পর ১৫ চিকিৎসক ও ৭১ কর্মচারীর চাকরি রাজস্বকরণ হওয়াটা অবশ্যই খুশির খবর। এতে তিনিসহ হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী খুবই আনন্দিত। তাদের চাকরি রাজস্বকরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও চেষ্টা করেছেন।