যেভাবে বুঝবেন বিপদে আছে বৃক্ক

:স্পন্দন ডেস্ক::  কিডনি বা বৃক্কের অবস্থা যাচাই করতে স্বাস্থ্য-পরীক্ষাই নির্ভরযোগ্য। তবে শারীরিক কিছু ইঙ্গিত থেকেও বৃক্কের সমস্যা আঁচ করা যেতে পারে।

রক্ত পরিশোধন এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণের মতো জরুরি কাজগুলোর দায়ভার বৃক্কের ওপর। বয়স বাড়ার সঙ্গে বৃক্কের কার্ক্ষমতা কমতে থাকে। তবে বিশেষ কিছু রোগের কারণে সময়ের আগেই তা ঘটতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।

উচ্চ রক্তচাপ: রক্তনালী আর বৃক্ক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই রক্তচাপ বাড়লে বৃক্কের উপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়বেই। উচ্চ রক্তচাপের কারণে বৃক্কের অভ্যন্তরীন রক্তনালীতে আঁচড় পড়তে থাকে এবং দুর্বল হতে থাকে। ফলে কমতে থাকে বৃক্কের রক্ত পরিশোধন করার ক্ষমতা।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য মতে, উচ্চ রক্তচাপ হল বৃক্ক অকেজো হয়ে যাওয়ার প্রধাণ কারণগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়।

জলবিয়োগ অতিরিক্ত কম কিংবা বেশি: ঘন ঘন জলবিয়োগের বেগ আসতে থাকলে নেপথ্যের কারণ হতে পারে বৃক্কের সমস্যা। বৃক্কের পরিশোধন করার ক্ষমতা কমে গেলেই এমনটা হয়। আবার জলবিয়োগের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে তা হতে পারে মূত্রনালীতে কোনো বাধা সৃষ্টি হওয়া কিংবা বৃক্কে পাথর হওয়ার লক্ষণ।

অমনোযোগী ও শারীরিক দুর্বলতা: কোনো কিছু মনে রাখতে না পারলে কিংবা মস্তিষ্কের জ্ঞান আহরণের ক্ষমতা কমে যেতে থাকলে, কারণ হতে পারে বৃক্কের কার্যক্ষমতার কমতি। আর এই ঘাটতির ফলাফল হল রক্তে জমবে বিষাক্ত উপাদান। এতে ক্লান্ত, দুর্বল বোধ করার পাশাপাশি সমস্যা হবে যে কোনো কাজে মনোযোগ দিতে। আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল বিষাক্ত উপাদান জমতে পারে মস্তিষ্কেও।

পিঠ ও পেশিতে ব্যথা: পিঠের নিচের অংশে, বিশেষ করে এক পাশে প্রতিনিয়ত ব্যথা অনুভব করলে হতে পারে ব্যথার উৎস বৃক্ক। সাধারণত মূত্রনালীতে প্রদাহ, বৃক্কে পাথর কিংবা আঘাত পাওয়ার কারণে এমন ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও ‘ইলেক্ট্রোলাইট’য়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে পেশিতে ব্যথা হতে পারে।

হাত-পা ফোলা: প্রায়ই হাত-পা ফুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বৃক্ক পরীক্ষা করাতে হবে। বৃক্কের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের সোডিয়াম জমতে থাকে, যা আসলে মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এই সোডিয়াম জমে যাওয়াই হাত-পা ফুলে যাওয়ার কারণ।

প্রসাবে রক্ত: সুস্থ বৃক্ক রক্ত পরিশোধন করার সময় নিশ্চিত করে যে আলাদা করা বর্জ্য পদার্থের মধ্যে কোনো রক্তকণিকা থাকবে না। তবে এই অঙ্গই যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন রক্ত মিশে যায় মূত্রের সঙ্গে। বৃক্কে টিউমার, পাথর কিংবা প্রদাহের কারণে প্রসাবের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে।

ঘুমের সমস্যা: শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে অপসারণ না হলে তা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। যাদের বৃক্কে পাথর আছে তাদের অনেকের মাঝেই অনিদ্রার সমস্যা দেখা যায়।

ছবি: রয়টার্স।