যশোরে ডাকাতি হওয়া সোনাসহ আটক দুই জুয়েলারি ব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর সদরের ভায়না গ্রামের কালি দাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় লুট করা বেশ কিছু সোনার গহনা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুই জুয়েলারি ব্যবসায়ী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছেন।

আটককৃতরা হলেন, রাজবাড়ি সদরের বিনোদপুর গ্রামের ময়নাল শেখের ছেলে রাজিব আলী শেখ ও কোলারহাট গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র নাথ কর্মকারের ছেলে গৌর কর্মকার।

সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে গৌর কর্মকার জানিয়েছেন, তিনি জুয়েলারি ব্যবসা করেন। তার বাজারে এক সবজি বিক্রেতা মাগুরার একজনকে নিয়ে যায় কিছু সোনা বিক্রি করতে। সোনার গহনাগুলো তার স্ত্রীর বলে সে জানিয়েছিল।

এ সময় তার কাছ থেকে এক জোড়া বালা, দুইটি চেইন, একটি টিকলি, চারটি আংটি ও এক জোড়া কানের দুল কিনেছিলেন। যার ওজন হয়েছিল তিন ভরি ৬ আনা। পরবর্তীতে এ সোনা গলিয়ে এক ভরি সাত আনা হয়। এ সোনা তিনি আটক জুয়েলারি ব্যবসায়ী রাজিব ও তপন কুমারের কাছে বিক্রি করেছেন।

অপরদিকে রাজিব জানিয়েছেন, গৌর কর্মকার মাঝে মধ্যে তার দোকানে সোনা পালিশের কাজ করাতেন। এ মাসের ১০ তারিখের দিকে গৌরি এক ভরি সাত আনা সোনা দিয়ে তপনের কাছে বিক্রি করতে বলেন। তিনি সেগুলো তপনের কাছে বিক্রি করেন। গৌর কর্মকার এ সোনা কোথা থেকে পেয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জবানবন্দিতে জানান।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোর সদরের ভায়না গ্রামের হরিদাস অধিকারীর বাজারে মুদি দোকান আছে। ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাজার কমিটির অন্যান্য সদস্যের সাথে পাহারা দিচ্ছিলেন হরিদাস।

এ সুযোগে রাত ৩টার দিকে তার বাড়িতে বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে মুখোশধারী একদল ডাকাত ভিতরে ঢুকে হরিদাসের স্ত্রী কনিকা রানী অধিকারীর গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে তার ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি সোনার গহনা লুট করে নিয়ে যায়।

তারপর শাবল দিয়ে পাশের ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তার ভাই কালীদাস অধিকারীর ঘরে ঢুকে মারপিট করে গামছা দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। এ সময় তার ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়াও দুই ঘর থেকে কাপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে ডাকাত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার চেঁচামেচি করলে হারিদাসসহ বাজারের পাহারাদাররা ছুটে আসে।

এ ব্যাপারে হরিদাস অধিকারী বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি দস্যুতার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে ডাকাতি হওয়া সোনা ক্রয়ের অভিযোগে গৌরি কর্মকার ও রাজিবকে আটক করে পুলিশ।

গতকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।