যশোর আশ্রমরোড যুবলীগ অফিসে বোমা হামলা, গুলি বর্ষণ

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

যশোর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আঞ্চলিক অফিসে বোমা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন তুহিনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সে সময় তুহিন অফিসে বসেছিলেন। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শহরের আশ্রম রোডস্থ যুবলীগের অফিসে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার স্প্লিন্টার ও গুলির খোসা জব্দ করেছে।

ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক কামাল হোসেন তুহিন জানান, সোমবার বিকেলে তিনি ওই অফিসে বসে ছিলেন। তার সাথে ছিলেন বন্ধু লিটন ও ইমন শিকদার নামে ভাইপো সম্পর্কের এক যুবক। সে সময় বিলপাড়ার রাস্তার দিকে থেকে ৭ যুবক দৌড়ে এসে তার অফিস লক্ষ্য করে চারটি বোমা নিক্ষেপ করে। দু’টি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বাকি দু’টি অফিসের সামনে পড়ে। কিন্তু অফিসের মধ্যে পড়েনি কোনো বোমা।

এরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। পরে ওই যুবকরা বিলপাড়ার রাস্তা বেয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তুহিন ও তার সঙ্গীরা দৌড়ে পাশের কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অফিসে আশ্রয় নেন।

সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (অপারেশসন) শেখ তাসমিম আলম, সেকেন্ড অফিসার আমিরুজ্জামান, এসআই সাহাজুল ইসলামসহ একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে পৌঁছান। অফিসের আশপাশ থেকে বিস্ফোরিত বোমার স্প্লিন্টার, একটি অবিস্ফোরিত বোমা ও একটি গুলির খোসা জব্দ করে পুলিশ।

তুহিন আরো জানান, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা তার অফিসে বোমার হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা এখন অপ্রতিরোধ্য। পরে পুলিশ কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অফিস থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

সেখানে দেখা গেছে ৭জন যুবক বোমা ও অস্ত্র হাতে দৌড়ে এসে হামলা চালিয়ে চলে যায়। এদের মধ্যে আশ্রম রোডের আলিমের ছেলে আকাশ, রানীর বস্তির মাস্টারের ছেলে হানিফ ও একই এলাকার রাকিবকে চেনা গেছে। হামলাকারীরা সকলেই মাদক বিক্রেতা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (অপারেশনস) শেখ তাসমিম আলম জানান, যুবলীগের একটি অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা পাশের কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের অফিস থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। হামলাকারীদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ওই এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটির বিলুপ্ত করে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কামাল হোসেন তুহিনকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বিরোধ আছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগে আরো হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।