টাকা ছাড়া সই করেন না শরণখোলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা!

✍ শরণখোলা প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, বিনা কারণে অতিরিক্ত টেস্ট, সার্টিফিকেট ও কাগজপত্রে সই দেয়াসহ নানা অজুহাতে অর্থ হাতানোর অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট থাকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জামাল হোসেন শোভন যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে একচেটিয়াভাবে এক প্রকার গলা কাটা ব্যবসা শুরু করেছেন!

অপরদিকে, মোট একজন ডাক্তারসহ ৩-৪ জন স্বাস্থ্য সহকারীদের পক্ষে উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন ওই কর্মকর্তা। তিনি উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবার কথা না ভেবে নিজের ভাগ্য উন্নয়নে জন্য নানা অজুহাতে অফিস ফাঁকি দিয়ে ৩৫০ টাকা ফি নিয়ে প্রাইভেট রোগী দেখাসহ আশপাশের ক্লিনিকগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অহেতুক একাধিক টেস্ট দিয়ে তাদেরকে প্রায় সর্বস্বান্ত করে তুলেছেন। টেস্টের ৬০ ভাগ টাকা নেন ডাক্তার, বাকি ৪০ ভাগ নেয় ক্লিনিক মালিক।

এছাড়া সাধারণ মানুষ তার নিকট কোনো সার্টিফিকেট সত্যায়িতের জন্য স্বাক্ষর-সিল নিতে গেলে টাকা দাবি করেন। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে নানা অজুহাত দেখান।

এ ব্যাপারে আলাপকালে উপজেলার খাদা গ্রামের দিনমজুর হেমায়েত বলেন, সম্প্রতি তিনি তার প্রতিবন্ধী ছেলে আল-আমিনের জন্য কাগজপত্র ঠিক করতে ওই ডাক্তারের কাছে গেলে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে তার।

উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা গৃহিণী রাহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি জন্ম নিবন্ধনের কাগজে স্বাক্ষর করাতে ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি ৩০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার সাথে অশ্লীল ব্যবহার করেন। ডাক্তারের এমন অসদাচারণে তাৎক্ষণিক কেঁদে ফেলেন রাহিমা। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, এ স্যারের মতো টাকার ক্ষুধা বিগত দিনের কোনো কর্মকর্তার ছিল না। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অফিস না করে হাসপাতালের চেয়ে বেশি সময় কাটান ক্লিনিকে এবং হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কিছু সামগ্রী ক্লিনিকে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। তার কাছে চিকিৎসা নিতে গরিব মানুষ গেলেও টাকা লাগে। আর যে রোগী টাকা কম দেয়, তাকে বিনা কারণে কতগুলো টেস্ট দিয়ে হয়রানি করেন।

এছাড়া তার নামে ৩-৪ জন নার্স নরমাল ডেলিভারি করে রোগীদের নিকট থেকে ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা আদায় করছেন। এমনকি হাসপাতালের স্টাফরা পর্যন্ত রেহাই পান না ওই নার্সদের হাত থেকে। তবে ডাক্তার সংকট কেটে গেলে এই কর্মকর্তার একক আধিপত্য থাকবে না বলে মন্তব্য করেন কর্মচারীরা।

জানতে চাইলে ডাক্তার জামাল হোসেন শোভন বলেন, এ সকল অভিযোগের সত্যতা নেইভ ষড়যন্ত্রকারীরা আমার বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া রাহিমা বেগমের সাথে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি। কথা না বোঝার কারণে একটু ধমক দেয়া হয়েছে মাত্র।